ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে তিন বিষয়ে মহানবী (সা.) শপথ করেছেন

হাদিসে বর্ণিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

মহানবী (সা.) যে ৩ বিষয়ে শপথ করেছেন—ইসলামে শপথ বা কসম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সাধারণত মানুষ আল্লাহর নামে শপথ করে থাকে। তবে কিছু বিশেষ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও শপথ করে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন, যাতে উম্মত বিষয়গুলোর গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

হজরত আবু কাবশা আল-আনমারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি তিনটি বিষয়ের ব্যাপারে শপথ করে বলছি, আর তোমাদের একটি ঘটনা বলছি, তা ভালোভাবে মনে রেখো।” এরপর তিনি তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩২৫)

১. সদকা করলে সম্পদ কমে না

রাসুলুল্লাহ (সা.) শপথ করে বলেন, কোনো বান্দার সম্পদ সদকা করার কারণে কমে না। বরং আল্লাহ তাআলা দানশীল ব্যক্তির সম্পদে বরকত দান করেন এবং তাকে উত্তম প্রতিদান দেন। তাই দারিদ্র্যের ভয় না করে সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

২. ক্ষমা করলে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়

মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমাশীলতা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। কোরআন ও হাদিসে বারবার ক্ষমার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

৩. মানুষের কাছে হাত পাতলে দারিদ্র্য বাড়ে

রাসুলুল্লাহ (সা.) শপথ করে আরও বলেন, যে ব্যক্তি অকারণে মানুষের কাছে চাওয়া শুরু করে, আল্লাহ তার জন্য অভাবের দরজা খুলে দেন। ইসলাম আত্মমর্যাদা, পরিশ্রম ও হালাল উপার্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া কারও কাছে হাত না পেতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) চার ধরনের মানুষের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন, প্রকৃত সফলতা সম্পদের পরিমাণে নয়; বরং তাকওয়া, সৎ নিয়ত এবং সঠিক কাজে সম্পদ ব্যয়ের মধ্যেই রয়েছে। যিনি আল্লাহভীরু এবং নিজের সম্পদ কল্যাণের পথে ব্যয় করেন, তিনিই সর্বোত্তম অবস্থানে থাকেন।

এই হাদিস মুসলমানদের জন্য দানশীলতা, ক্ষমাশীলতা, আত্মসম্মানবোধ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করার এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এই শিক্ষাগুলো অনুসরণ করলে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যে তিন বিষয়ে মহানবী (সা.) শপথ করেছেন

Update Time : ১১:০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মহানবী (সা.) যে ৩ বিষয়ে শপথ করেছেন—ইসলামে শপথ বা কসম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সাধারণত মানুষ আল্লাহর নামে শপথ করে থাকে। তবে কিছু বিশেষ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও শপথ করে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন, যাতে উম্মত বিষয়গুলোর গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

হজরত আবু কাবশা আল-আনমারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি তিনটি বিষয়ের ব্যাপারে শপথ করে বলছি, আর তোমাদের একটি ঘটনা বলছি, তা ভালোভাবে মনে রেখো।” এরপর তিনি তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩২৫)

আরও পড়ুন  যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন

১. সদকা করলে সম্পদ কমে না

রাসুলুল্লাহ (সা.) শপথ করে বলেন, কোনো বান্দার সম্পদ সদকা করার কারণে কমে না। বরং আল্লাহ তাআলা দানশীল ব্যক্তির সম্পদে বরকত দান করেন এবং তাকে উত্তম প্রতিদান দেন। তাই দারিদ্র্যের ভয় না করে সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

২. ক্ষমা করলে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়

মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমাশীলতা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। কোরআন ও হাদিসে বারবার ক্ষমার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  দাম্পত্য কলহ: শান্তির কার্যকর ইসলামী নির্দেশনা

৩. মানুষের কাছে হাত পাতলে দারিদ্র্য বাড়ে

রাসুলুল্লাহ (সা.) শপথ করে আরও বলেন, যে ব্যক্তি অকারণে মানুষের কাছে চাওয়া শুরু করে, আল্লাহ তার জন্য অভাবের দরজা খুলে দেন। ইসলাম আত্মমর্যাদা, পরিশ্রম ও হালাল উপার্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া কারও কাছে হাত না পেতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী—জানুন ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) চার ধরনের মানুষের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছেন, প্রকৃত সফলতা সম্পদের পরিমাণে নয়; বরং তাকওয়া, সৎ নিয়ত এবং সঠিক কাজে সম্পদ ব্যয়ের মধ্যেই রয়েছে। যিনি আল্লাহভীরু এবং নিজের সম্পদ কল্যাণের পথে ব্যয় করেন, তিনিই সর্বোত্তম অবস্থানে থাকেন।

এই হাদিস মুসলমানদের জন্য দানশীলতা, ক্ষমাশীলতা, আত্মসম্মানবোধ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করার এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এই শিক্ষাগুলো অনুসরণ করলে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।