ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গরম পানিতে লেবু খেলে সত্যিই কী হয়? জানুন বাস্তবতা Logo ডায়াবেটিসে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লিভার? নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য Logo অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জরুরি বার্তা: সেরা ৭টি হটলাইন নম্বর Logo এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের লক্ষণ: কোন উপসর্গে সতর্ক হবেন? Logo যুদ্ধ থামবে না, বললেন নেতানিয়াহু; বাড়ছে নতুন সংকট Logo অ্যাজমা বাড়ায় যেসব খাবার, জেনে রাখুন এখনই Logo রাম মন্দিরের লুটের টাকা কি আরএসএস-বিজেপির কোষাগারে? Logo প্রেমের জেরে কিশোর হত্যা: দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, Logo ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় ২ কোটি মানুষ Logo দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

প্রেমের জেরে কিশোর হত্যা: দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড,

কিশোর হত্যা ও মরদেহ গুম মামলায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড। ছবি:সংগৃহীত

ময়মনসিংহে কিশোরী বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে এক কিশোরকে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার ঘটনায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরীর বাবা ও চাচাকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় মামলার তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে একজন আসামি পলাতক থাকায় তিনি আদালতে হাজির হননি। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের এ রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি আবু হানিফ খান। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খান। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা ঘোষণা করেছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সৈকত হাসান ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে একই এলাকার এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তদন্তে উঠে আসে, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে সৈকতকে কৌশলে ওই কিশোরীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার আগে সৈকত বিষয়টি তাঁর এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন। এরপর রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর ২০২১ সালের ২১ মে পুলিশ মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় সৈকতের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।

নিহতের বাবা আকরাম হোসেন ২০২১ সালের ২২ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে কিশোরীর বাবা, চাচা এবং দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা সাক্ষ্য, আলামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

পরবর্তীতে আদালতে একে একে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে খালাস প্রার্থনা করে।

সব দিক বিবেচনা করে আদালত দুই ভাইকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি দায়ী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া কিশোরীর বাবা ও চাচাকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার রায় দেওয়া হয়।

এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম পানিতে লেবু খেলে সত্যিই কী হয়? জানুন বাস্তবতা

প্রেমের জেরে কিশোর হত্যা: দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড,

Update Time : ০৬:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহে কিশোরী বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে এক কিশোরকে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার ঘটনায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরীর বাবা ও চাচাকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় মামলার তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে একজন আসামি পলাতক থাকায় তিনি আদালতে হাজির হননি। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের এ রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি আবু হানিফ খান। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খান। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

আরও পড়ুন  বিয়ের আগে হবু শাশুড়ির মন জয়ের সহজ কিছু কৌশল

ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সাজা ঘোষণা করেছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সৈকত হাসান ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে একই এলাকার এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তদন্তে উঠে আসে, ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে সৈকতকে কৌশলে ওই কিশোরীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার আগে সৈকত বিষয়টি তাঁর এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন। এরপর রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, সড়কের পাশে মিলল মরদেহ

দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর ২০২১ সালের ২১ মে পুলিশ মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় সৈকতের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।

নিহতের বাবা আকরাম হোসেন ২০২১ সালের ২২ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে কিশোরীর বাবা, চাচা এবং দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা সাক্ষ্য, আলামত এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় শোকের ছায়া

পরবর্তীতে আদালতে একে একে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে খালাস প্রার্থনা করে।

সব দিক বিবেচনা করে আদালত দুই ভাইকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি দায়ী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া কিশোরীর বাবা ও চাচাকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার রায় দেওয়া হয়।

এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।