ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গরম পানিতে লেবু খেলে সত্যিই কী হয়? জানুন বাস্তবতা Logo ডায়াবেটিসে নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লিভার? নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য Logo অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জরুরি বার্তা: সেরা ৭টি হটলাইন নম্বর Logo এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের লক্ষণ: কোন উপসর্গে সতর্ক হবেন? Logo যুদ্ধ থামবে না, বললেন নেতানিয়াহু; বাড়ছে নতুন সংকট Logo অ্যাজমা বাড়ায় যেসব খাবার, জেনে রাখুন এখনই Logo রাম মন্দিরের লুটের টাকা কি আরএসএস-বিজেপির কোষাগারে? Logo প্রেমের জেরে কিশোর হত্যা: দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, Logo ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় ২ কোটি মানুষ Logo দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

রাম মন্দিরের লুটের টাকা কি আরএসএস-বিজেপির কোষাগারে?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

অযোধ্যার রাম মন্দির। ছবি: সংগৃহীত ।

অযোধ্যার রাম মন্দিরে দান ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। উত্তর প্রদেশ সরকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই লুটের অর্থ শেষ পর্যন্ত আরএসএস ও বিজেপির কোষাগারে পৌঁছেছে, যদিও এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

গত বুধবার উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তাদের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ করার জন্য এসআইটির মেয়াদ আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বড় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করা কার্যত অসম্ভব।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। শুধু দানপাত্র থেকেই অর্থ আত্মসাৎ হয়নি, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান সামগ্রীও হাতবদল হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আত্মসাতের পরিমাণ ২০০ কোটি রুপিরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র আরও বলছে, এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা উত্তর প্রদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে থাকতে পারে। সে কারণে আন্তঃরাজ্য তদন্ত পরিচালনার সুবিধার্থে সিবিআই বা ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনও এই মামলার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো সদস্য আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালে তাঁকে পাঁচ লাখ রুপি জরিমানা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাম মন্দিরের চুরির ঘটনা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু পুলিশি তদন্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিচারিক পর্যবেক্ষণের আওতায়ও এসেছে।

শুরুতে এটিকে সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হলেও এখন ঘটনাটি পুরোপুরি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। আগামী বছর উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীরা এই ঘটনাকে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসে বিজেপি এখন সেই বিশ্বাসেরই অপব্যবহার করেছে। তাঁদের ভাষ্য, রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিযোগে আরএসএস, বিজেপি ও সংঘ পরিবারের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক আক্রমণ জোরদার হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইতিহাসে মাহমুদ গজনি ২৭ বছরে ১৭টি মন্দির লুট করেছিলেন, অথচ বিজেপি ও আরএসএস মাত্র ৪৩ দিনে ৭০ বার রাম মন্দির লুট করেছে। যদিও এটি তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্য, এর সত্যতা কোনো তদন্তকারী সংস্থা নিশ্চিত করেনি।

এসআইটির প্রাথমিক তদন্তের তথ্যের বরাত দিয়ে কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ৩৯ দিনের মধ্যে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ মেলার সময়েই সবচেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্রের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা মন্দির ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রের আত্মীয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দানপাত্রের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।

এসআইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাম মন্দিরে দান এসেছে ৮২ কোটি ৭৮ লাখ রুপি। এছাড়া ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে মোট দানের পরিমাণ দুই হাজার কোটি রুপিরও বেশি। এই অর্থের হিসাবেই বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, আত্মসাৎ করা অর্থ শেষ পর্যন্ত আরএসএস ও বিজেপির কোষাগারে গেছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা বা আদালতের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এদিকে কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ছেলে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে সম্প্রতি আরএসএসকে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত সংস্থা হিসেবে নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নথিভুক্ত না হওয়ায় সংগঠনটির আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়। এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

চুরির ঘটনার প্রভাব অযোধ্যার অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী, পূজাসামগ্রী বিক্রেতা ও হোটেল খাতের ওপর।

অনেক ভক্তই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তিও এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মন্দিরে দানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাম মন্দির উদ্বোধনের পর অযোধ্যায় পর্যটন ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে অযোধ্যায় বছরে ১৬ লাখ পর্যটক এসেছিলেন, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৬ কোটিতে। ফলে এই চুরির ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি তদন্ত নয়, ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনীতি এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম পানিতে লেবু খেলে সত্যিই কী হয়? জানুন বাস্তবতা

রাম মন্দিরের লুটের টাকা কি আরএসএস-বিজেপির কোষাগারে?

Update Time : ০৬:৪৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

অযোধ্যার রাম মন্দিরে দান ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। উত্তর প্রদেশ সরকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই লুটের অর্থ শেষ পর্যন্ত আরএসএস ও বিজেপির কোষাগারে পৌঁছেছে, যদিও এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

গত বুধবার উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তাদের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ করার জন্য এসআইটির মেয়াদ আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বড় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করা কার্যত অসম্ভব।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। শুধু দানপাত্র থেকেই অর্থ আত্মসাৎ হয়নি, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান সামগ্রীও হাতবদল হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আত্মসাতের পরিমাণ ২০০ কোটি রুপিরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র আরও বলছে, এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা উত্তর প্রদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে থাকতে পারে। সে কারণে আন্তঃরাজ্য তদন্ত পরিচালনার সুবিধার্থে সিবিআই বা ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনও এই মামলার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো সদস্য আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালে তাঁকে পাঁচ লাখ রুপি জরিমানা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাম মন্দিরের চুরির ঘটনা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু পুলিশি তদন্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিচারিক পর্যবেক্ষণের আওতায়ও এসেছে।

শুরুতে এটিকে সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হলেও এখন ঘটনাটি পুরোপুরি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। আগামী বছর উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীরা এই ঘটনাকে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসে বিজেপি এখন সেই বিশ্বাসেরই অপব্যবহার করেছে। তাঁদের ভাষ্য, রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিযোগে আরএসএস, বিজেপি ও সংঘ পরিবারের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক আক্রমণ জোরদার হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইতিহাসে মাহমুদ গজনি ২৭ বছরে ১৭টি মন্দির লুট করেছিলেন, অথচ বিজেপি ও আরএসএস মাত্র ৪৩ দিনে ৭০ বার রাম মন্দির লুট করেছে। যদিও এটি তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্য, এর সত্যতা কোনো তদন্তকারী সংস্থা নিশ্চিত করেনি।

এসআইটির প্রাথমিক তদন্তের তথ্যের বরাত দিয়ে কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ৩৯ দিনের মধ্যে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ মেলার সময়েই সবচেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্রের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা মন্দির ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রের আত্মীয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দানপাত্রের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।

এসআইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাম মন্দিরে দান এসেছে ৮২ কোটি ৭৮ লাখ রুপি। এছাড়া ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে মোট দানের পরিমাণ দুই হাজার কোটি রুপিরও বেশি। এই অর্থের হিসাবেই বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, আত্মসাৎ করা অর্থ শেষ পর্যন্ত আরএসএস ও বিজেপির কোষাগারে গেছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা বা আদালতের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এদিকে কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ছেলে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে সম্প্রতি আরএসএসকে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত সংস্থা হিসেবে নিবন্ধনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নথিভুক্ত না হওয়ায় সংগঠনটির আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়। এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

চুরির ঘটনার প্রভাব অযোধ্যার অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী, পূজাসামগ্রী বিক্রেতা ও হোটেল খাতের ওপর।

অনেক ভক্তই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তিও এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মন্দিরে দানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাম মন্দির উদ্বোধনের পর অযোধ্যায় পর্যটন ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে অযোধ্যায় বছরে ১৬ লাখ পর্যটক এসেছিলেন, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৬ কোটিতে। ফলে এই চুরির ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি তদন্ত নয়, ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনীতি এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে।