ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের লক্ষণ: কোন উপসর্গে সতর্ক হবেন?

মেনোপজের পর অস্বাভাবিক রক্তপাত বা পেলভিক ব্যথা হলে অবহেলা নয়, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মেনোপজের পর যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক যোনি স্রাব, পেলভিক ব্যথা বা অকারণে ক্লান্তি—এসব উপসর্গকে কখনোই সাধারণ পরিবর্তন ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার জরায়ুর ভেতরের আবরণ বা এন্ডোমেট্রিয়ামে তৈরি হয়। এটি নারীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে পরিচিত এক ধরনের ক্যান্সার। মেনোপজের সময় শরীরে নানা ধরনের হরমোনজনিত পরিবর্তন হওয়ায় অনেক নারী ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে ধরে নেন। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত।

যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন:

  • মেনোপজের পর সামান্য রক্তপাত হলেও তা স্বাভাবিক নয়।
  • মাসিক অনিয়মিত বা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • টানা ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকার পর পুনরায় রক্তপাত হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।

অস্বাভাবিক যোনি স্রাবও হতে পারে সংকেত

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কিছুটা স্রাব স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে জলীয়, গোলাপি, বাদামি বা রক্তমিশ্রিত স্রাব দেখা গেলে সেটি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।

বিশেষ করে যদি—

  • স্রাব কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে।
  • দুর্গন্ধ থাকে।
  • সংক্রমণের কোনো লক্ষণ না থাকলেও স্রাব বন্ধ না হয়।

তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

পেলভিক ব্যথা বা তলপেটে চাপ অনুভূতি

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের আরেকটি সাধারণ লক্ষণ হলো শ্রোণী বা পেলভিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কিংবা খিঁচুনি।

অনেক নারী এটিকে—

  • মেনোপজের অস্বস্তি,
  • ফাইব্রয়েড,
  • কিংবা হজমজনিত সমস্যা

বলে মনে করেন। কিন্তু ব্যথা যদি নিয়মিত থাকে বা তলপেটে চাপ ও ভারী অনুভূতি তৈরি হয়, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।

সহবাসের সময় ব্যথা

মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ায় যোনি শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। তবে যদি সহবাসের সময় ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত বা অস্বাভাবিক স্রাবও থাকে, তাহলে সেটি জরায়ুর ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

মূত্রত্যাগ বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন

রোগটি কিছু ক্ষেত্রে আশপাশের অঙ্গে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে—

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ,
  • কোষ্ঠকাঠিন্য,
  • পেলভিক অস্বস্তি,
  • মলত্যাগে পরিবর্তন।

এসব সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অকারণে ক্লান্তি ও ওজন কমে যাওয়া

রোগের অগ্রসর পর্যায়ে অনেকের মধ্যে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যদিও মেনোপজের সময় ক্লান্তি স্বাভাবিক হতে পারে, তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলে অবহেলা করা ঠিক নয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন—

  • মেনোপজের পর যেকোনো ধরনের রক্তপাত
  • দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক যোনি স্রাব
  • পেলভিক বা তলপেটে স্থায়ী ব্যথা
  • সহবাসের সময় ব্যথা বা রক্তপাত
  • ঘন ঘন প্রস্রাব বা কোষ্ঠকাঠিন্য
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত ক্লান্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা সম্ভব। তাই মেনোপজের স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দীর্ঘদিন অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহরুখ খানের স্টেডিয়াম ঘিরে চমক, ক্রিকেটে শুরু নতুন ইতিহাস

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের লক্ষণ: কোন উপসর্গে সতর্ক হবেন?

Update Time : ০৭:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মেনোপজের পর যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক যোনি স্রাব, পেলভিক ব্যথা বা অকারণে ক্লান্তি—এসব উপসর্গকে কখনোই সাধারণ পরিবর্তন ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার জরায়ুর ভেতরের আবরণ বা এন্ডোমেট্রিয়ামে তৈরি হয়। এটি নারীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে পরিচিত এক ধরনের ক্যান্সার। মেনোপজের সময় শরীরে নানা ধরনের হরমোনজনিত পরিবর্তন হওয়ায় অনেক নারী ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে ধরে নেন। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত।

যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন:

  • মেনোপজের পর সামান্য রক্তপাত হলেও তা স্বাভাবিক নয়।
  • মাসিক অনিয়মিত বা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • টানা ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকার পর পুনরায় রক্তপাত হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।

অস্বাভাবিক যোনি স্রাবও হতে পারে সংকেত

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কিছুটা স্রাব স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে জলীয়, গোলাপি, বাদামি বা রক্তমিশ্রিত স্রাব দেখা গেলে সেটি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।

বিশেষ করে যদি—

  • স্রাব কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে।
  • দুর্গন্ধ থাকে।
  • সংক্রমণের কোনো লক্ষণ না থাকলেও স্রাব বন্ধ না হয়।

তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

পেলভিক ব্যথা বা তলপেটে চাপ অনুভূতি

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের আরেকটি সাধারণ লক্ষণ হলো শ্রোণী বা পেলভিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কিংবা খিঁচুনি।

অনেক নারী এটিকে—

  • মেনোপজের অস্বস্তি,
  • ফাইব্রয়েড,
  • কিংবা হজমজনিত সমস্যা

বলে মনে করেন। কিন্তু ব্যথা যদি নিয়মিত থাকে বা তলপেটে চাপ ও ভারী অনুভূতি তৈরি হয়, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত।

সহবাসের সময় ব্যথা

মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ায় যোনি শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। তবে যদি সহবাসের সময় ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত বা অস্বাভাবিক স্রাবও থাকে, তাহলে সেটি জরায়ুর ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

মূত্রত্যাগ বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন

রোগটি কিছু ক্ষেত্রে আশপাশের অঙ্গে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে—

  • ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ,
  • কোষ্ঠকাঠিন্য,
  • পেলভিক অস্বস্তি,
  • মলত্যাগে পরিবর্তন।

এসব সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অকারণে ক্লান্তি ও ওজন কমে যাওয়া

রোগের অগ্রসর পর্যায়ে অনেকের মধ্যে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যদিও মেনোপজের সময় ক্লান্তি স্বাভাবিক হতে পারে, তবে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলে অবহেলা করা ঠিক নয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন—

  • মেনোপজের পর যেকোনো ধরনের রক্তপাত
  • দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক যোনি স্রাব
  • পেলভিক বা তলপেটে স্থায়ী ব্যথা
  • সহবাসের সময় ব্যথা বা রক্তপাত
  • ঘন ঘন প্রস্রাব বা কোষ্ঠকাঠিন্য
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত ক্লান্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা সম্ভব। তাই মেনোপজের স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দীর্ঘদিন অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।