ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল, নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ৩

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৪৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৫২০

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পুকুর খুঁড়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করছে সিআইডি। ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল—নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি পুকুরের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে মা কমলা বেগম ও তার ছেলে নোমানের কঙ্কাল। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) বিকেলে জয়াগ গ্রামের আবু আমিনের বাড়ির পুকুরে পানি সেচ দিয়ে ভেকু মেশিনের সাহায্যে খননকাজ চালানো হয়। পরে পুকুরের নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় মা ও ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় এবং পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কমলা বেগম ও তার ৯ বছরের ছেলে নোমানকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর শুকনো মৌসুমে পুকুরের মধ্যে তাদের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে রাজু ও সাগর এবং নাতি টিপুকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি পুকুরে খনন চালিয়ে কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সিআইডি নোয়াখালীর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রাইছুল ইসলাম জানান, প্রথমে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানায় একটি জিআর মামলা রেকর্ড করা হয়। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর খুঁড়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মধ্যে ছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। তবে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

এদিকে দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল—এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল, নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ৩

Update Time : ১২:৪৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল—নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি পুকুরের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে মা কমলা বেগম ও তার ছেলে নোমানের কঙ্কাল। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) বিকেলে জয়াগ গ্রামের আবু আমিনের বাড়ির পুকুরে পানি সেচ দিয়ে ভেকু মেশিনের সাহায্যে খননকাজ চালানো হয়। পরে পুকুরের নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় মা ও ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় এবং পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, সাতকানিয়ায় মাদক বিরোধের জেরে নিহত ১

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে কমলা বেগম ও তার ৯ বছরের ছেলে নোমানকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর শুকনো মৌসুমে পুকুরের মধ্যে তাদের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে রাজু ও সাগর এবং নাতি টিপুকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি পুকুরে খনন চালিয়ে কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  ট্রাইব্যুনালে আজ আবু সাঈদ মামলার রায়

সিআইডি নোয়াখালীর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রাইছুল ইসলাম জানান, প্রথমে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানায় একটি জিআর মামলা রেকর্ড করা হয়। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর খুঁড়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মধ্যে ছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। তবে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

আরও পড়ুন  ব্যাংক ক্যাশিয়ার থেকে ‘সিআইডি’র এসিপি প্রদ্যুমন এক অনন্য যাত্রা

এদিকে দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে মিলল মা-ছেলের কঙ্কাল—এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।