লিভার ভালো রাখতে হলে জীবনযাত্রায় কিছু ছোট পরিবর্তন আনা জরুরি, কারণ লিভারের রোগ প্রায়ই প্রথম দিকে কোনো লক্ষণ ছাড়াই এগিয়ে চলে। শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি হজমে সাহায্য করা, বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া এবং ভিটামিন শক্তি সঞ্চয়ের মতো অসংখ্য কাজ করে। ভালো দিক হলো, লিভার নিজের ক্ষতি অনেকটাই নিজে সারিয়ে তুলতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন কিছু খারাপ অভ্যাস চালিয়ে গেলে এই অঙ্গটিও একসময় কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। তখন ফ্যাটি লিভার, প্রদাহ এমনকি সিরোসিসের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন কিছু অভ্যাস আছে যা ৪০ বছর বয়সের আগেই লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
নিয়মিত মদপান এর মধ্যে অন্যতম। অনেকে মনে করেন অল্প মদপানে সমস্যা নেই, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে লিভারের জন্য অ্যালকোহলের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। বারবার মদপানে লিভারকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়, ফলে প্রথমে চর্বি জমে, এরপর প্রদাহ শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সিরোসিস পর্যন্ত গড়াতে পারে।
জাঙ্ক ফুড ও প্যাকেটজাত খাবারও লিভারের বড় শত্রু। চিপস, বার্গার, কোল্ড ড্রিংকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলসের মতো আল্ট্রা প্রসেসড খাবারে থাকা অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর তেল নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ে, যা এখন কম বয়সিদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও লিভারের ক্ষতি করে। দীর্ঘ স্ট্রেসে কর্টিসল হরমোন বেড়ে পেটের চারপাশে চর্বি জমে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
লিভার ভালো রাখতে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, জাঙ্ক ফুড কমানো, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, পর্যাপ্ত পানি পান, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। ধূমপান এড়ানো ও পর্যাপ্ত ঘুমও দীর্ঘমেয়াদে লিভারকে সুস্থ রাখতে সহায়ক।



























