অভিনয় থেকে এবার গানের মঞ্চে। নিউইয়র্কে প্রথমবার বড় পরিসরে একক মিউজিক্যাল শো করলেন অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। শনিবারের এই আয়োজনে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ও ৩৭ হাজার টাকা দামের টিকিট রাখা হলেও দর্শকে পূর্ণ ছিল হলরুম।
এই আয়োজন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অপূর্ব ও আয়োজকেরা। অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়ে দর্শকদের সামনে আসার বিষয়টি নিয়ে আগেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন তিনি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয় নিউইয়র্কের মঞ্চে। গান পরিবেশনের পাশাপাশি দর্শকদের উচ্ছ্বাসও কাছ থেকে অনুভব করেন এই অভিনেতা।
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর নিজের অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন অপূর্ব। নিউইয়র্কের দর্শকদের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে তিনি লেখেন, ‘নিউইয়র্ক, তুমি আমার হৃদয় জয় করেছ, তুমি আমার হৃদয়ে!’ মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস অনুভব করাকে স্বপ্নপূরণের মতো একটি মুহূর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই রাতের স্মৃতি আজীবন ধরে রাখতে চান বলে জানান অপূর্ব। একই সঙ্গে তাঁর একক অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলার জন্য নিউইয়র্কের দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে পুরো অভিজ্ঞতাটিই ছিল আনন্দ ও আবেগে ভরা।
তবে কনসার্টের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দর্শকদের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভাবনীয় সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অপূর্ব। এত দ্রুত মানুষের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পাবেন, তা কল্পনাও করেননি বলে তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন তিনি।
গানের সঙ্গে অপূর্বর পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার সময়ও তিনি গানের চর্চা করতেন। ছোটবেলায় তাঁর ইচ্ছা ছিল প্রকৌশলী হওয়ার। একটা সময় গান করার স্বপ্নও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিনয়ই তাঁকে নিয়ে যায় ভিন্ন এক পরিচিতির দিকে।
নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের কাছে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন অপূর্ব। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছোট পর্দায় নিয়মিত কাজ করে তিনি হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয় এক মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও নানা সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এই অভিনেতা।
বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তানকে সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন অপূর্ব। এরই মধ্যে নিউইয়র্কের মঞ্চে গান গেয়ে পেলেন দর্শকদের ভালোবাসা। অভিনয়ের পরিচিত জগতের বাইরে এই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য কতটা বিশেষ, অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া প্রতিক্রিয়াতেই তার প্রকাশ মিলেছে।



























