খেপ খেলা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শেখ মোরছালিনকে টাঙ্গাইলে স্থানীয় একটি ম্যাচে খেলতে দেখা গেছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—পেশাদার লিগ ও জাতীয় দলের ফুটবলারদের এভাবে স্থানীয় ম্যাচে খেলা কতটা গ্রহণযোগ্য? মোরছালিন একা নন, শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন ফুটবলারও ঢাকার বাইরে স্থানীয় ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ফুটবলসংশ্লিষ্টদের মত অবশ্য এক নয়। এক পক্ষ মনে করছে, পেশাদার ফুটবলারদের কাদা মাঠে কিংবা নিম্নমানের বলে অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে খেলা উচিত নয়। এতে খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সামান্য চোটও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি ক্লাবের সঙ্গে করা চুক্তির বাইরে গিয়ে এ ধরনের ম্যাচ খেলা শৃঙ্খলাজনিত প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ফুটবলারদের বাস্তবতাও সামনে আনছেন অনেকে। দেশের পেশাদার ফুটবলে ক্লাবগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। ফলে অনেক খেলোয়াড়ের কাছে স্থানীয় ম্যাচ থেকে পাওয়া অর্থ শুধু বাড়তি উপার্জন নয়, বরং সংসার চালানোর প্রয়োজনীয় অংশ। এই বাস্তবতায় তাঁদের খেপ খেলা বন্ধ করতে বলার আগে ক্লাবগুলোর আর্থিক দায়বদ্ধতা ও খেলোয়াড়দের নিয়মিত পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়। ক্লাব বা জাতীয় দলের চুক্তির বাইরে গিয়ে স্থানীয় ম্যাচে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনো সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুরোধ কিংবা চাপও কাজ করে বলে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা আছে। জাতীয় দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়াও কিছুদিন আগে এমন বাস্তবতার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। ফলে বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। একজন ফুটবলার কেন স্থানীয় ম্যাচে যাচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বাফুফের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী জাতীয় দল ও ক্লাবের চুক্তির বাইরে গিয়ে এ ধরনের ম্যাচ খেলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখন পর্যন্ত নিজ উদ্যোগে কোনো তদন্ত শুরু করেনি। আজ বিকেলে বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সভাপতি তাবিথ আউয়াল প্রথমে জানান, অভিযোগ বা বিষয়টি সামনে এলে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বাফুফে সভাপতি পরে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, জাতীয় দলের বা ক্লাবের খেলোয়াড়েরা অন্য কোথাও খেলছেন—এমন কোনো অভিযোগ এখনো তাঁদের কাছে আসেনি। তাই অভিযোগ পাওয়ার আগে আগাম মন্তব্য করতে চান না তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাফুফে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি দেখবে। অর্থাৎ আপাতত খেপ খেলা নিয়ে বাফুফে নিজ থেকে তদন্তে নামছে না। অভিযোগ এলে তখন তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাই থাকছে।


























