জিয়া ও খালেদার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর মতে, দেশের বর্তমান প্রজন্মকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন, কর্ম এবং রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিশু-কিশোরদের উপযোগী সহজ ভাষার বই প্রকাশের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত দুটি পপ-আপ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
জিয়া ও খালেদার ইতিহাস শিশু-কিশোরদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতেই লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রার লেখা ‘শহীদ জিয়ার গল্প শোনো’ এবং ‘ছোটদের প্রিয় খালেদা জিয়া’ বই দুটি প্রকাশ করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের শিশু-কিশোরদের জন্য এ ধরনের পপ-আপ বইয়ের উদ্যোগ নতুন ধরনের পাঠের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। বইয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সময়কে সহজভাবে জানার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহও বাড়তে পারে। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বই দুটির বিষয়বস্তু আরও বিস্তৃত পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পাশাপাশি ইতিহাসভিত্তিক আরও বই প্রকাশে লেখকদের উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে শিশু-কিশোরদের উপযোগী প্রকাশনার গুরুত্ব উঠে আসে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে জিয়া খালেদার ইতিহাস পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ আরও নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রকাশিত বই দুটি ইংরেজিতে অনুবাদের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি, যাতে বাংলা ভাষার বাইরের পাঠকরাও বইগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পারেন।
জিয়া খালেদার ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত এই দুটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকাশনা সংস্থা দশমিকের প্রকাশক দীপান্ত রায়হান। এতে সংসদ-সদস্য এসএম জিলানী, সেলিমুজ্জামান সেলিম, কেএম বাবর, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু এবং বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলসহ অনেকে অংশ নেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি মূলত শিশু-কিশোরদের জন্য ইতিহাসভিত্তিক পাঠ্য উপকরণ তৈরির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে।
ইতিহাস ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জীবন নিয়ে শিশুদের জন্য বই তৈরি করতে হলে তথ্য উপস্থাপনে সহজ ভাষার পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বই তরুণ পাঠকদের কাছে অতীতের ঘটনাগুলোকে আরও পরিচিত করে তুলতে পারে। বিশেষ করে জিয়া খালেদার ইতিহাস নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে বয়স উপযোগী ভাষা, ছবি, পপ-আপ নকশা এবং গল্প বলার কৌশল ব্যবহার পাঠকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও গণমাধ্যম, প্রকাশনা এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানের বক্তব্য ও উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া। জিয়া খালেদার ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত বই দুটি সেই ধারার একটি উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আরও লেখক শিশু-কিশোরদের উপযোগী ইতিহাসভিত্তিক বই লিখতে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে বাংলা বইয়ের পাশাপাশি ইংরেজি অনুবাদ হলে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছেও এসব প্রকাশনা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। এভাবে বই, ছবি ও সহজ গল্পের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস তরুণদের কাছে আরও পাঠযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

























