মাত্র ৭ দিনে অ্যাটেনশন স্প্যান বা মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। ফোনের নোটিফিকেশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বারবার কাজ পরিবর্তন ও অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে অনেকের মনোযোগ দ্রুত ভেঙে যায়। তাই একসঙ্গে অনেক কিছু করার বদলে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট সময় ধরে একটি কাজে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
প্রথম দিন নিজের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার কারণ খুঁজে বের করুন। কাজ করার সময় কখন ফোন হাতে নিচ্ছেন, কোন অ্যাপ খুলছেন কিংবা কতবার কাজ পরিবর্তন করছেন, সেগুলো লক্ষ্য করুন। দিনের শেষে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ নষ্ট করে এমন দুই থেকে তিনটি কারণ লিখে রাখুন। এতে নিজের অভ্যাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয় দিনে ১৫ মিনিটের ফোকাস সেশন দিয়ে শুরু করুন। একটি নির্দিষ্ট কাজ বেছে নিয়ে টানা ১৫ মিনিট শুধু সেই কাজটিই করুন। কাজ শুরুর আগে ফোন সাইলেন্ট করে দূরে রাখুন। ১৫ মিনিট শেষে পাঁচ মিনিট বিরতি নিন এবং দিনে তিন থেকে চারবার এই অনুশীলন করার চেষ্টা করুন।
তৃতীয় দিনে ফোনকে চোখের আড়ালে রাখার অভ্যাস করুন। শুধু টেবিলের ওপর উল্টো করে রাখলে অনেক সময় মনোযোগ ফোনের দিকেই চলে যায়। সম্ভব হলে কাজের সময় ফোন অন্য ঘরে রাখুন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন।
চতুর্থ দিনে ২৫ মিনিটের ডিপ ওয়ার্ক অনুশীলন করুন। একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বেছে নিয়ে ২৫ মিনিট কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সেটিতে মন দিন। এরপর পাঁচ মিনিটের বিরতি নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে তিন থেকে চারটি এমন সেশন করা যেতে পারে।
পঞ্চম দিনে মাল্টিটাস্কিং বন্ধ করার চেষ্টা করুন। একই সময়ে লেখা, মেসেজের উত্তর দেওয়া, হোয়াটসঅ্যাপ দেখা কিংবা ইউটিউব চালানোর বদলে একবারে একটি কাজ করুন। কাজের মাঝখানে নতুন কোনো চিন্তা এলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ পরিবর্তন না করে সেটি কাগজে লিখে রাখুন। বর্তমান কাজ শেষ করার পর নতুন বিষয়টি শুরু করুন।
ষষ্ঠ দিনটি হতে পারে ‘বোরডম ট্রেনিং’-এর দিন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট কোনো স্ক্রিন ছাড়া বসে থাকা, হাঁটা কিংবা চা খাওয়ার মতো সাধারণ কাজ করুন। বিরক্ত লাগলেই ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস কমানোর চেষ্টা করুন। এতে সব সময় নতুন উদ্দীপনা খোঁজার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করতে পারে।
সপ্তম দিনে নিজের মনোযোগের ক্ষমতা পরীক্ষা করুন। একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বেছে নিয়ে টানা ৪৫ মিনিট কাজ করার চেষ্টা করুন। এ সময় ফোন সম্পূর্ণ দূরে রাখুন এবং অন্য কোনো কাজ করবেন না। শেষে হিসাব করুন, কতক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছেন এবং কোন কারণে মনোযোগ ভেঙেছে।
এই সাত দিনের অনুশীলনের পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার অভ্যাস করা ভালো। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ৩০ মিনিট ফোন না দেখা এবং ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ফোন দূরে রাখাও মনোযোগ ধরে রাখার রুটিনে যুক্ত করা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একদিনেই দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা না করা। এখন যদি ১০ মিনিটও একটানা কোনো কাজে মন দিতে কষ্ট হয়, তাহলে প্রথমেই এক ঘণ্টার লক্ষ্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ১৫ মিনিট থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ২৫, ৪৫ মিনিট বা তার বেশি সময়ের দিকে এগিয়ে যাওয়াই বাস্তবসম্মত। দীর্ঘদিন ধরে মনোযোগের সমস্যা থাকলে এবং তা পড়াশোনা, কাজ বা দৈনন্দিন জীবনকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।




























