ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অশ্বিন: মাঞ্জরেকারের সমালোচনায় বদলে গেল যে জীবন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

অশ্বিনের ক্যারিয়ারে সমালোচনা বড় পরিবর্তন এনেছিল। | ছবি: সংগৃহীত

অশ্বিনের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল একেবারেই নিখুঁত নয়। ২০১১ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে তিনটি টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। ১৬৮ ওভার বল করেও পেয়েছিলেন মাত্র ৯ উইকেট। সফর শেষে দেশে ফেরার বিমানে বসে পত্রিকায় নিজের সম্পর্কে একটি লেখা পড়েন তরুণ অশ্বিন। লেখাটি করেছিলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। সেখানে অশ্বিনের ফিটনেস, ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ের সময় তাঁর ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। লেখাটি তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে।

সেই সময় অশ্বিনের বয়স কম। স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনাটি তাঁর ভালো লাগেনি। রাগ হয়েছিল, কষ্টও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অনুভূতিকে নেতিবাচকভাবে নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখেননি তিনি। বরং সমালোচনাটিকেই নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। সম্প্রতি জিও হটস্টারের ‘চিকি সিঙ্গেলস’ অনুষ্ঠানে নিজের ক্যারিয়ারের সেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে অশ্বিন জানান, মাঞ্জরেকারের লেখা তাঁকে নিজের ফিটনেস নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল।

অশ্বিন বলেন, প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরের পর মাঞ্জরেকার একটি দীর্ঘ কলাম লিখেছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে বসে পুরো লেখাটি পড়েছিলেন তিনি। প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল রাগ ও কষ্ট। তবে বিষয়টি মাথায় পুষে রাখেননি। বরং পরবর্তী চার বছর নিজের ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন। অশ্বিন স্বীকার করেছেন, জন্মগতভাবে তিনি খুব ক্ষিপ্র অ্যাথলেট ছিলেন না। তাই অন্যদের তুলনায় নিজের শরীর ও ফিটনেস নিয়ে তাঁকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে।

এই পরিশ্রমই পরে তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। ২০১৫ সালে মাঞ্জরেকার আবার অশ্বিনকে নিয়ে লিখেছিলেন। এবার তাঁর লেখায় ছিল প্রশংসা। অশ্বিন তখন বুঝতে পারেন, কয়েক বছর আগে যে সমালোচনা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল, সেটিই তাঁকে নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। এরপর মাঞ্জরেকারের নম্বর খুঁজে বের করে তাঁকে বার্তা পাঠান অশ্বিন। জানান, সেই পুরোনো লেখাটি তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে বলেন, তিনি সব সময় সমালোচনা থেকে শেখার মতো কিছু খুঁজে দেখেন।

অশ্বিনের এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। একজন খেলোয়াড়ের সাফল্য শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে তৈরি হয় না; নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের মানসিকতাও সেখানে বড় ভূমিকা রাখে। অশ্বিন সেই কাজটিই করেছিলেন। সমালোচনাকে অপমান হিসেবে না দেখে নিজের উন্নতির হাতিয়ার বানিয়েছিলেন। ফলাফলও এসেছে অসাধারণভাবে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সময় তাঁর নামের পাশে ছিল ১০৬ টেস্টে ৫৩৭ উইকেট।

ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অনিল কুম্বলের ৬১৯ উইকেটের পর অশ্বিনই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু বল হাতে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সই দেননি, বরং নিজেকে সময়ের সঙ্গে বদলেছেন। তাই মাঞ্জরেকারের সেই কঠিন সমালোচনা শেষ পর্যন্ত অশ্বিনের জন্য হয়ে উঠেছিল এক ধরনের আয়না। যে আয়নায় নিজের দুর্বলতা দেখে তিনি নিজেকেই নতুন করে গড়ে নিয়েছিলেন। তাঁর গল্প তাই শুধু ক্রিকেটের নয়; জীবনে সমালোচনাকে কীভাবে সাফল্যের সিঁড়িতে পরিণত করা যায়, তারও একটি দারুণ উদাহরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

অশ্বিন: মাঞ্জরেকারের সমালোচনায় বদলে গেল যে জীবন

Update Time : ১১:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

অশ্বিনের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল একেবারেই নিখুঁত নয়। ২০১১ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে তিনটি টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। ১৬৮ ওভার বল করেও পেয়েছিলেন মাত্র ৯ উইকেট। সফর শেষে দেশে ফেরার বিমানে বসে পত্রিকায় নিজের সম্পর্কে একটি লেখা পড়েন তরুণ অশ্বিন। লেখাটি করেছিলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। সেখানে অশ্বিনের ফিটনেস, ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ের সময় তাঁর ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। লেখাটি তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে।

সেই সময় অশ্বিনের বয়স কম। স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনাটি তাঁর ভালো লাগেনি। রাগ হয়েছিল, কষ্টও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অনুভূতিকে নেতিবাচকভাবে নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখেননি তিনি। বরং সমালোচনাটিকেই নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। সম্প্রতি জিও হটস্টারের ‘চিকি সিঙ্গেলস’ অনুষ্ঠানে নিজের ক্যারিয়ারের সেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে অশ্বিন জানান, মাঞ্জরেকারের লেখা তাঁকে নিজের ফিটনেস নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল।

আরও পড়ুন  কেন ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়া হলো ওয়াশিংটনের নৈশভোজ থেকে

অশ্বিন বলেন, প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরের পর মাঞ্জরেকার একটি দীর্ঘ কলাম লিখেছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে বসে পুরো লেখাটি পড়েছিলেন তিনি। প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল রাগ ও কষ্ট। তবে বিষয়টি মাথায় পুষে রাখেননি। বরং পরবর্তী চার বছর নিজের ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন। অশ্বিন স্বীকার করেছেন, জন্মগতভাবে তিনি খুব ক্ষিপ্র অ্যাথলেট ছিলেন না। তাই অন্যদের তুলনায় নিজের শরীর ও ফিটনেস নিয়ে তাঁকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে।

এই পরিশ্রমই পরে তাঁর ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। ২০১৫ সালে মাঞ্জরেকার আবার অশ্বিনকে নিয়ে লিখেছিলেন। এবার তাঁর লেখায় ছিল প্রশংসা। অশ্বিন তখন বুঝতে পারেন, কয়েক বছর আগে যে সমালোচনা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল, সেটিই তাঁকে নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। এরপর মাঞ্জরেকারের নম্বর খুঁজে বের করে তাঁকে বার্তা পাঠান অশ্বিন। জানান, সেই পুরোনো লেখাটি তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে বলেন, তিনি সব সময় সমালোচনা থেকে শেখার মতো কিছু খুঁজে দেখেন।

আরও পড়ুন  মার্তিনেজকে দলে চায় জুভেন্তাস, বিশ্বকাপের আগে জোর গুঞ্জন

অশ্বিনের এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। একজন খেলোয়াড়ের সাফল্য শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে তৈরি হয় না; নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের মানসিকতাও সেখানে বড় ভূমিকা রাখে। অশ্বিন সেই কাজটিই করেছিলেন। সমালোচনাকে অপমান হিসেবে না দেখে নিজের উন্নতির হাতিয়ার বানিয়েছিলেন। ফলাফলও এসেছে অসাধারণভাবে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সময় তাঁর নামের পাশে ছিল ১০৬ টেস্টে ৫৩৭ উইকেট।

আরও পড়ুন  ১০ দিনেই ৮ আত্মঘাতী গোল, ভাঙতে পারে বিশ্বকাপের রেকর্ড

ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অনিল কুম্বলের ৬১৯ উইকেটের পর অশ্বিনই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু বল হাতে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সই দেননি, বরং নিজেকে সময়ের সঙ্গে বদলেছেন। তাই মাঞ্জরেকারের সেই কঠিন সমালোচনা শেষ পর্যন্ত অশ্বিনের জন্য হয়ে উঠেছিল এক ধরনের আয়না। যে আয়নায় নিজের দুর্বলতা দেখে তিনি নিজেকেই নতুন করে গড়ে নিয়েছিলেন। তাঁর গল্প তাই শুধু ক্রিকেটের নয়; জীবনে সমালোচনাকে কীভাবে সাফল্যের সিঁড়িতে পরিণত করা যায়, তারও একটি দারুণ উদাহরণ।