ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মেসির বাবার মৃত্যু, সবকিছু ছাড়িয়ে গেল পারেদেসের বার্তা

মেসির বাবার মৃত্যুতে পারেদেসের বার্তা

লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আর্জেন্টিনা ফুটবল। কঠিন এই সময়ে অধিনায়কের পাশে দাঁড়াতে জাতীয় দলের সতীর্থদের নিয়ে রোজারিও যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বোকা জুনিয়র্সের অধিনায়ক জানিয়েছেন, মেসির পরিবারের এই শোককে তাঁরা নিজেদের শোক হিসেবেই দেখছেন। মাঠের সম্পর্ক পেরিয়ে এই মানবিক মুহূর্তে মেসির পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

পার্কে পাত্রিসিওসে ভেলেজ সার্সফিল্ডের বিপক্ষে বোকা জুনিয়র্সের ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন পারেদেস। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর মেসির বাবার মৃত্যু নিয়ে কথা বলেন তিনি। পারেদেস জানান, এখনো মেসির সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি। তবে মেসি রোজারিও পৌঁছানোর পর তাঁর পাশে থাকার জন্য সতীর্থদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

মেসির সঙ্গে কথা না হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন পারেদেস। তিনি বলেন, মেসি তখন ভ্রমণের মধ্যে ছিলেন। তাই সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মেসি রোজারিও পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান তাঁরা। এরপর জাতীয় দলের কয়েকজন সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে মেসির কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

রোজারিওতে যাওয়ার সময় নিয়েও সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করবেন পারেদেস। তাঁরা সেদিনই রওনা হবেন, নাকি পরদিন দুপুরের পর যাবেন, তা ঠিক করবেন। মেসির প্রতি তাঁদের গুরুত্ব কতটা, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। পারেদেসের ভাষায়, মেসির এই শোককে তাঁরা নিজেদের শোক হিসেবেই মনে করছেন।

বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে নিজের শহর রোজারিওতে ফিরেছেন মেসি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হোর্হে মেসি ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন। ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সাফল্যের শিখরে ওঠা পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই বাবাকে হারানোর এই মুহূর্ত মেসির জন্য যে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

হোর্হে মেসির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলেই সম্পন্ন হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মেসির ঘনিষ্ঠজনেরাও এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে রয়েছেন। প্রিয় তারকার শোকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোজারিওতে ভক্তদেরও উপস্থিতি দেখা গেছে। নীরবে সেখানে জড়ো হয়ে তাঁরা মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থদের সম্পর্ক বরাবরই গভীর। একসঙ্গে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও আরও নানা সাফল্যের অংশীদার হয়েছেন তাঁরা। মাঠে মেসির নেতৃত্বে খেললেও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে তাঁকে একজন সতীর্থের চেয়েও বেশি আপনজন হিসেবে দেখেন অনেকে। পারেদেসের বক্তব্যে সেই সম্পর্কেরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

আর্জেন্টিনা দলের হয়ে মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছেন পারেদেস। মাঠে তাঁদের বোঝাপড়া যেমন আলোচিত, মাঠের বাইরেও রয়েছে ঘনিষ্ঠতা। মেসির বাবার মৃত্যুর পর পারেদেসের দ্রুত পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ সেই সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করেছে। জাতীয় দলের অন্য সতীর্থরাও মেসির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

হোর্হে মেসির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক ছিল শুধু বাবা-ছেলের নয়, ফুটবলজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অংশীদারত্বও। মেসির প্রতিভা বিকাশ, ক্যারিয়ার গড়া এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার যাত্রায় বাবার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানুষটিকে হারিয়ে এখন শোকের ভারে নুয়ে পড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই কঠিন সময়ে মেসির জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে পরিবার ও দীর্ঘদিনের সতীর্থদের উপস্থিতি। রোজারিওতে পারেদেসসহ জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের যাওয়ার পরিকল্পনা তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি মেসির প্রতি তাঁদের গভীর ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের প্রকাশ। ফুটবলের বাইরেও যে এই দল একটি পরিবারের মতো, সেই বার্তাই যেন আরও একবার সামনে এলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

কমলাপুর স্টেডিয়ামে সব দোকান বাতিল, প্রশাসক বরখাস্ত

মেসির বাবার মৃত্যু, সবকিছু ছাড়িয়ে গেল পারেদেসের বার্তা

Update Time : ০৮:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আর্জেন্টিনা ফুটবল। কঠিন এই সময়ে অধিনায়কের পাশে দাঁড়াতে জাতীয় দলের সতীর্থদের নিয়ে রোজারিও যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বোকা জুনিয়র্সের অধিনায়ক জানিয়েছেন, মেসির পরিবারের এই শোককে তাঁরা নিজেদের শোক হিসেবেই দেখছেন। মাঠের সম্পর্ক পেরিয়ে এই মানবিক মুহূর্তে মেসির পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

পার্কে পাত্রিসিওসে ভেলেজ সার্সফিল্ডের বিপক্ষে বোকা জুনিয়র্সের ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন পারেদেস। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর মেসির বাবার মৃত্যু নিয়ে কথা বলেন তিনি। পারেদেস জানান, এখনো মেসির সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি। তবে মেসি রোজারিও পৌঁছানোর পর তাঁর পাশে থাকার জন্য সতীর্থদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

মেসির সঙ্গে কথা না হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন পারেদেস। তিনি বলেন, মেসি তখন ভ্রমণের মধ্যে ছিলেন। তাই সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মেসি রোজারিও পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান তাঁরা। এরপর জাতীয় দলের কয়েকজন সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে মেসির কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাসের পর ইতিহাস, মেসির জাদুতে উড়ন্ত সূচনা আর্জেন্টিনার

রোজারিওতে যাওয়ার সময় নিয়েও সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করবেন পারেদেস। তাঁরা সেদিনই রওনা হবেন, নাকি পরদিন দুপুরের পর যাবেন, তা ঠিক করবেন। মেসির প্রতি তাঁদের গুরুত্ব কতটা, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। পারেদেসের ভাষায়, মেসির এই শোককে তাঁরা নিজেদের শোক হিসেবেই মনে করছেন।

বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে নিজের শহর রোজারিওতে ফিরেছেন মেসি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হোর্হে মেসি ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন। ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সাফল্যের শিখরে ওঠা পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই বাবাকে হারানোর এই মুহূর্ত মেসির জন্য যে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

আরও পড়ুন  হ্যারি কেইনের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ, মেসির উদাহরণে দিলেন ইঙ্গিত

হোর্হে মেসির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলেই সম্পন্ন হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মেসির ঘনিষ্ঠজনেরাও এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে রয়েছেন। প্রিয় তারকার শোকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোজারিওতে ভক্তদেরও উপস্থিতি দেখা গেছে। নীরবে সেখানে জড়ো হয়ে তাঁরা মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থদের সম্পর্ক বরাবরই গভীর। একসঙ্গে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও আরও নানা সাফল্যের অংশীদার হয়েছেন তাঁরা। মাঠে মেসির নেতৃত্বে খেললেও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে তাঁকে একজন সতীর্থের চেয়েও বেশি আপনজন হিসেবে দেখেন অনেকে। পারেদেসের বক্তব্যে সেই সম্পর্কেরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

আর্জেন্টিনা দলের হয়ে মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছেন পারেদেস। মাঠে তাঁদের বোঝাপড়া যেমন আলোচিত, মাঠের বাইরেও রয়েছে ঘনিষ্ঠতা। মেসির বাবার মৃত্যুর পর পারেদেসের দ্রুত পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ সেই সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করেছে। জাতীয় দলের অন্য সতীর্থরাও মেসির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে নকআউটে কঙ্গো

হোর্হে মেসির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক ছিল শুধু বাবা-ছেলের নয়, ফুটবলজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অংশীদারত্বও। মেসির প্রতিভা বিকাশ, ক্যারিয়ার গড়া এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার যাত্রায় বাবার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানুষটিকে হারিয়ে এখন শোকের ভারে নুয়ে পড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই কঠিন সময়ে মেসির জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে পরিবার ও দীর্ঘদিনের সতীর্থদের উপস্থিতি। রোজারিওতে পারেদেসসহ জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের যাওয়ার পরিকল্পনা তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি মেসির প্রতি তাঁদের গভীর ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের প্রকাশ। ফুটবলের বাইরেও যে এই দল একটি পরিবারের মতো, সেই বার্তাই যেন আরও একবার সামনে এলো।