বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ সবসময় শুরুতেই স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। তবে শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে সেগুলোকে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। অনিয়মিত মাসিক, অস্বাভাবিক তীব্র ব্যথা কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের মতো বিষয় কখনো কখনো এমন স্বাস্থ্যসমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে, যেগুলো প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একটি লক্ষণ থাকলেই যে বন্ধ্যাত্ব হবে, এমন নয়।
প্রথম সংকেত হতে পারে মাসিকের অনিয়ম। দীর্ঘ সময় মাসিক না হওয়া, খুব ঘন ঘন মাসিক হওয়া বা মাসিকের ধরনে হঠাৎ বড় পরিবর্তন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অনিয়মিত মাসিকের পেছনে হরমোনের সমস্যা, PCOS বা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। PCOS-এর ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিকের পাশাপাশি ব্রণ, অতিরিক্ত লোম এবং চুল পাতলা হওয়ার মতো লক্ষণও দেখা যেতে পারে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাসিকের আগে বা সময়ে অস্বাভাবিক তীব্র ব্যথা। সাধারণ পিরিয়ডের ব্যথা আর এমন ব্যথা এক নয়, যা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করে বা মাসিক শেষ হওয়ার পরও থেকে যায়। তীব্র পেলভিক ব্যথা, বেশি রক্তপাত এবং মলত্যাগ বা প্রস্রাবের সময় ব্যথা থাকলে এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো সমস্যার সম্ভাবনা চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করা দরকার।
তৃতীয় সংকেত হতে পারে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার পরিবর্তন। মুখ বা শরীরে অতিরিক্ত লোম, বারবার ব্রণ, মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, ওজনের পরিবর্তন এবং মাসিক অনিয়ম একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। এগুলো PCOS-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
মনে রাখা জরুরি, এসব বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এমন সতর্ক সংকেত হলেও এগুলো দিয়ে একা বন্ধ্যাত্ব নির্ণয় করা যায় না। বন্ধ্যাত্বের পেছনে ডিম্বাশয়, জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব, হরমোনসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। পুরুষের কারণও থাকতে পারে। তাই সন্তান ধারণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
শরীরের পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সময়মতো কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাসিকের দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম, তীব্র পেলভিক ব্যথা বা PCOS-এর মতো লক্ষণ থাকলে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। সময়মতো মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।


























