ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেজা চুলে ঘুমানো কতটা ক্ষতিকর? জানুন স্বাস্থ্যঝুঁকি

ভেজা চুলে ঘুমালে হতে পারে স্ক্যাল্প ও চুলের ক্ষতি ছবি: সংগৃহীত

ভেজা চুলে ঘুমানো নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আমরা একটা কথা শুনে আসছি এতে নাকি ঠান্ডা লেগে যায় বা জ্বর হয়। অভিভাবকরাও প্রায়ই এই ভয়ে ভেজা চুলে ঘুমাতে বারণ করতেন। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

ভারতের শারদাকেয়ার হেলথসিটির ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. নীরজ কুমারের মতে, সর্দি-কাশি বা ফ্লু মূলত ভাইরাসের কারণে হয়, ভেজা চুলে ঘুমানোর কারণে নয়। তাই ভেজা চুল থেকে সরাসরি অসুস্থতা তৈরি হওয়ার প্রচলিত ধারণাটি আসলে একটি ভুল বিশ্বাস।

তবে রোগ সরাসরি না ছড়ালেও ভেজা চুলে ঘুমানো একেবারে নিরাপদ অভ্যাস নয়। এটি স্ক্যাল্প, চুলের গুণগত মান ও ঘুমের স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘ সময় স্ক্যাল্প ভেজা থাকলে সেখানে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয়, যা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী। যাদের আগে থেকেই খুশকি বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুলকানি বা লালচে ভাব বেড়ে যেতে পারে।

ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে, কারণ পানি ঢুকে চুলের ফাইবার ফুলে ওঠে। রাতে বালিশের সঙ্গে ঘষা লেগে চুল সহজে ভেঙে যায়, জট পাকায় এবং উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। এছাড়া ভেজা চুলের আর্দ্রতা বালিশে শোষিত হয়ে সেখানে জীবাণুর বসবাস তৈরি করতে পারে, যা থেকে অ্যালার্জি বা ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। ঠান্ডা ও ভেজা বালিশে দীর্ঘক্ষণ শোয়ার কারণে কারও কারও মাথাব্যথা বা ঘাড়ে অস্বস্তিও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সম্ভব হলে ঘুমানোর আগেই চুল সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া ভালো। সময় না থাকলে তোয়ালে দিয়ে অতিরিক্ত পানি মুছে নেওয়া, হালকা তাপে ড্রায়ার ব্যবহার করা, চুল আলগা রাখা এবং সুতির বদলে সিল্ক বা স্যাটিনের বালিশকভার ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত বালিশকভার ধুয়ে রোদে শুকানোও জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেজা চুলে ঘুমানো কতটা ক্ষতিকর? জানুন স্বাস্থ্যঝুঁকি

Update Time : ১১:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ভেজা চুলে ঘুমানো নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আমরা একটা কথা শুনে আসছি এতে নাকি ঠান্ডা লেগে যায় বা জ্বর হয়। অভিভাবকরাও প্রায়ই এই ভয়ে ভেজা চুলে ঘুমাতে বারণ করতেন। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

ভারতের শারদাকেয়ার হেলথসিটির ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. নীরজ কুমারের মতে, সর্দি-কাশি বা ফ্লু মূলত ভাইরাসের কারণে হয়, ভেজা চুলে ঘুমানোর কারণে নয়। তাই ভেজা চুল থেকে সরাসরি অসুস্থতা তৈরি হওয়ার প্রচলিত ধারণাটি আসলে একটি ভুল বিশ্বাস।

আরও পড়ুন  চুলে কতবার চিরুনি চালানো উচিত? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

তবে রোগ সরাসরি না ছড়ালেও ভেজা চুলে ঘুমানো একেবারে নিরাপদ অভ্যাস নয়। এটি স্ক্যাল্প, চুলের গুণগত মান ও ঘুমের স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘ সময় স্ক্যাল্প ভেজা থাকলে সেখানে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ তৈরি হয়, যা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী। যাদের আগে থেকেই খুশকি বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুলকানি বা লালচে ভাব বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  ছুটির দিনে ত্বক-চুলের যত্নে ফিরুক হারানো জেল্লা

ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে, কারণ পানি ঢুকে চুলের ফাইবার ফুলে ওঠে। রাতে বালিশের সঙ্গে ঘষা লেগে চুল সহজে ভেঙে যায়, জট পাকায় এবং উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। এছাড়া ভেজা চুলের আর্দ্রতা বালিশে শোষিত হয়ে সেখানে জীবাণুর বসবাস তৈরি করতে পারে, যা থেকে অ্যালার্জি বা ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। ঠান্ডা ও ভেজা বালিশে দীর্ঘক্ষণ শোয়ার কারণে কারও কারও মাথাব্যথা বা ঘাড়ে অস্বস্তিও হতে পারে।

আরও পড়ুন  ফরাসি নারীদের সুন্দর চুলের গোপন ৫ রহস্য জানুন

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সম্ভব হলে ঘুমানোর আগেই চুল সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া ভালো। সময় না থাকলে তোয়ালে দিয়ে অতিরিক্ত পানি মুছে নেওয়া, হালকা তাপে ড্রায়ার ব্যবহার করা, চুল আলগা রাখা এবং সুতির বদলে সিল্ক বা স্যাটিনের বালিশকভার ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত বালিশকভার ধুয়ে রোদে শুকানোও জরুরি।