গরমেও কেন ঠান্ডা লেগে যায় এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চান অনেকেই। সাধারণ ধারণা হলো, ঠান্ডা লাগা শুধু শীতকালের সমস্যা। কিন্তু বাস্তবে গ্রীষ্মকাল কিংবা বর্ষাকালেও সর্দি, নাক বন্ধ, গলাব্যথা, কাশি, গলা খুসখুস করা এমনকি জ্বর পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তন, পানিশূন্যতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে বছরের যেকোনো সময় ঠান্ডা লাগতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, বাইরে গরম থাকলে ঠান্ডা লাগার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। ফলে নাক ও শ্বাসনালির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। এতে ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন
গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পর হঠাৎ খুব ঠান্ডা এসি রুমে প্রবেশ করা বা ঠান্ডা পরিবেশ থেকে গরমে চলে আসা শরীরের জন্য চাপ তৈরি করে। এই আকস্মিক তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে অনেকের সর্দি, কাশি ও গলাব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।
অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার ও পানীয়
প্রচণ্ড গরমে বরফ-ঠান্ডা পানি, কোমল পানীয় বা আইসক্রিম খেতে ভালো লাগলেও এগুলো অনেক সময় গলার সংবেদনশীল অংশে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডাজনিত উপসর্গ বাড়তে পারে।
ঘাম বা বৃষ্টিতে ভেজা শরীর
গরমে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া কিংবা বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ সময় থাকা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ঠান্ডা লাগা, সর্দি কিংবা কাশি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ঘুমের ঘাটতি ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। ফলে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ সহজে আক্রমণ করতে পারে। গরম ও বর্ষার অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় অনেকের ঘুমের সমস্যা হয়, যা ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ।
ধুলাবালু ও অ্যালার্জি
গরমের সময় বাতাসে ধুলাবালু, ফুলের রেণু ও বিভিন্ন অ্যালার্জেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এগুলোর সংস্পর্শে এলে অনেকের নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, নাক বন্ধ বা গলা খুসখুস করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যদিও এসব ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বর থাকে না।
সুস্থ থাকতে যা করবেন
- নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখুন।
- চোখ, নাক ও মুখে অযথা হাত দেবেন না।
- বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন।
- এসির তাপমাত্রা খুব কম রাখবেন না।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- মৌসুমি ফল ও টাটকা শাকসবজি খান।
- ঘাম বা বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরুন।
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
ঠান্ডা লেগে গেলে করণীয়
যদি সর্দি-কাশি বা গলাব্যথা শুরু হয়, তাহলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল খাবার খেতে হবে। গলাব্যথা কমাতে কুসুম গরম পানি পান করা যেতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে গরম পানির ভাপ নেওয়া উপকারী হতে পারে। আদা ও মধুও অনেক ক্ষেত্রে স্বস্তি দিতে সাহায্য করে।
নাক বন্ধ বা সর্দির সমস্যায় নরমাল স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা নাকের ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রয়োজনে ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে শ্বাসনালির শুষ্কতা কমে।
সব মিলিয়ে, গরমেও কেন ঠান্ডা লেগে যায় এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। তাই শুধু শীতকালে নয়, বছরের সব সময়ই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখা জরুরি।



























