ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ফিরলো করোনা ভাইরাস সতর্ক করলেন চিকিৎসক

ভারতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

করোনা ভাইরাস নিয়ে ভারতে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে কয়েকজনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়া এবং দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি জোরদার করেছে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে নতুন মহামারি হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে সম্প্রতি আটজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভোগা দুই ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোভিড-১৯ পাওয়া যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯-এর অধিকাংশ সংক্রমণ মৃদু প্রকৃতির। মুম্বাইয়ের গ্লেনইগলস হাসপাতালের বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হরিশ চাপলে বলেন, অধিকাংশ রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি কিংবা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা অথবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ অনেকটাই মৌসুমি ভাইরাসের মতো আচরণ করছে। আগের সংক্রমণ ও টিকাদানের কারণে অধিকাংশ মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও তা গুরুতর আকার ধারণ করছে না। তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং অন্যদের সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

ভারতীয় চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, বর্ষাকালে সরাসরি করোনা সংক্রমণ বাড়ে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে বৃষ্টির সময় মানুষ দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতরে অবস্থান করে এবং অনেক ক্ষেত্রে জানালা-দরজা বন্ধ রাখে। এতে বাতাস চলাচল কমে যাওয়ায় শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ভাইরাস দ্রুত ছড়াতে পারে। একই সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য মৌসুমি ভাইরাসও সক্রিয় থাকে, যার কারণে সাধারণ ফ্লু ও কোভিড-১৯-এর উপসর্গ আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, নিয়মিত হাত ধোয়া, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা, অসুস্থ অবস্থায় জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘদিনের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী, ক্যানসারের চিকিৎসাধীন ব্যক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

সবশেষে চিকিৎসকদের বার্তা একটাই করোনা ভাইরাস এখনো পুরোপুরি বিদায় নেয়নি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অযথা আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করলেই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে ফিরলো করোনা ভাইরাস সতর্ক করলেন চিকিৎসক

Update Time : ১১:০৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

করোনা ভাইরাস নিয়ে ভারতে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে কয়েকজনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়া এবং দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি জোরদার করেছে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে নতুন মহামারি হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে সম্প্রতি আটজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভোগা দুই ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোভিড-১৯ পাওয়া যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মানুষরা প্রতিদিন সকালে কী খান | দীর্ঘজীবী মানুষের সকালের খাবার

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯-এর অধিকাংশ সংক্রমণ মৃদু প্রকৃতির। মুম্বাইয়ের গ্লেনইগলস হাসপাতালের বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হরিশ চাপলে বলেন, অধিকাংশ রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি কিংবা দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা অথবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ অনেকটাই মৌসুমি ভাইরাসের মতো আচরণ করছে। আগের সংক্রমণ ও টিকাদানের কারণে অধিকাংশ মানুষের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও তা গুরুতর আকার ধারণ করছে না। তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং অন্যদের সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

আরও পড়ুন  চিনিমুক্ত ফুল-ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার

ভারতীয় চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, বর্ষাকালে সরাসরি করোনা সংক্রমণ বাড়ে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে বৃষ্টির সময় মানুষ দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতরে অবস্থান করে এবং অনেক ক্ষেত্রে জানালা-দরজা বন্ধ রাখে। এতে বাতাস চলাচল কমে যাওয়ায় শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ভাইরাস দ্রুত ছড়াতে পারে। একই সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য মৌসুমি ভাইরাসও সক্রিয় থাকে, যার কারণে সাধারণ ফ্লু ও কোভিড-১৯-এর উপসর্গ আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন  অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন ? মানসিক স্ট্রেস দূর করার উপায় জেনে নিন ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, নিয়মিত হাত ধোয়া, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা, অসুস্থ অবস্থায় জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘদিনের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী, ক্যানসারের চিকিৎসাধীন ব্যক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

সবশেষে চিকিৎসকদের বার্তা একটাই করোনা ভাইরাস এখনো পুরোপুরি বিদায় নেয়নি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অযথা আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করলেই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।