থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার একটি জনপ্রিয় ও জনাকীর্ণ পানশালায় গত রোববার রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই ট্র্যাজেডিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮ জন নিহত এবং আরও ৭১ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একটি লাইভ ব্যান্ডের গান চলাকালীন কি-বোর্ড বাদকের পেছনের অংশ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যান্ডের ব্যবস্থাপক আইস আথিপাত উইজার্ন জানান, কি-বোর্ড বাদক কোয়াং ধোঁয়া দেখেই সবাইকে দ্রুত বাইরে বের হওয়ার জন্য চিৎকার করে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু চোখের পলকেই চাতুচাক এলাকার ‘রং বিয়ার না লাট ফরাও’ নামের ওই পানশালাটি দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো চারপাশ ঢেকে যাওয়ায় ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষ বের হওয়ার জন্য অন্ধকারের মধ্যে দরজা হাতড়ে বেড়াতে থাকেন।
ভয়ার্ত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁচার তাগিদে মানুষ একে অপরের ওপর দিয়ে পাগলের মতো দৌড়াচ্ছিলেন এবং হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আইস যখন হামাগুড়ি দিয়ে কোনোমতে পেছনের দরজার দিকে এগোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ভেতরে একটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণের ধাক্কায় তিনি ছিটকে বাইরে পড়ে প্রাণে বাঁচলেও ভেতরে থাকা তাঁর প্রেমিকা ও বন্ধুরা নির্মমভাবে পুড়ে মারা যান।
অগ্নিকাণ্ডের সময় মঞ্চে পারফর্ম করা থাই ব্যান্ড থোটসাকান-এর বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় সদস্য এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। ব্যান্ডের আরেক সদস্য পাচারা সংফাতকায়েউ নিশ্চিত করেছেন যে, গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কি-বোর্ড বাদক কোয়াং, নারী কণ্ঠশিল্পী ব্রিজ এবং ড্রামার বিউ মারা গেছেন।
অন্যদিকে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন ব্যান্ডের মূল গায়ক টিক চাইচানা, যিনি আগুন লাগার ঠিক আগমুহূর্তে বাথরুমে যাওয়ায় অক্ষত অবস্থায় বের হতে পেরেছেন। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জ্বলন্ত পানশালা থেকে কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে বের হয়ে তিনি রাস্তায় হাউমাউ করে কাঁদছেন। টিক ফেসবুকে লিখেছেন যে তিনি নিরাপদে আছেন, তবে তাঁর মোবাইলসহ সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছেন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল একজন বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যিনি পার্শ্ববর্তী দেশ লাওসের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী উসা তাদশ্রী নামের এক নারী জানান, হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হওয়ার পর বাইরে বের হওয়ার সব পথ মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায়। চোখের সামনে নিজের দুই প্রিয় বন্ধুকে আগুনে পুড়ে মরতে দেখেও ধোঁয়া আর প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে কেউ তাঁদের বাঁচাতে পারেননি।
দমকল বাহিনীর কর্মীরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পানশালার এই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও ডেকোরেশন পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং আহতদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। এই ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তাঁরা সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



























