নকলায় ছাত্রলীগ গ্রেপ্তার অভিযানের মাধ্যমে শেরপুরের নকলা উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ছয় কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গড়েগাঁও মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নকলা থানা।
নকলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জি এইচ পিকুলও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে, নকলা উপজেলা থেকে শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের একটি মিছিলে অংশ নিতে কয়েকজন নেতাকর্মী একত্র হচ্ছেন। তথ্য যাচাইয়ের পর নকলা থানার একটি দল গড়েগাঁও মোড়ে অবস্থান নেয়।
নকলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল জানান, সন্দেহভাজনদের বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে সেখানে থাকা ছয়জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মাহিন (১৭), রকি (১৮), শুভ (১৭), কামরুল (২০), সিয়াম (১৮) এবং নয়ন (১৮)। তারা সবাই নকলা উপজেলার ৬ নম্বর পাঠাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নকলা থানার মামলা নম্বর ১/২৫-এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের শেরপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা জনসমাবেশের চেষ্টা করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, কিংবা মিছিলের প্রস্তুতির সঙ্গে আরও কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নকলার ঘটনাও সেই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযানের সময় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।



























