ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রকাশ হলো কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটি, সভাপতি নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান Logo বিষমুক্ত কৃষির ৫ উদ্যোগ, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে নতুন দৃষ্টান্ত Logo এয়ারপ্লেন মোডের ৭ কার্যকর ব্যবহার, জানলে অবাক হবেন Logo কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ Logo বিমানবন্দরে ৯৭ লাখ টাকার বিদেশি পণ্য জব্দ Logo চিঠির অমলিন স্মৃতি কেন আজও মানুষের মনে বেঁচে আছে Logo সরকারের ছয় মাসে তিন বড় ঝুঁকি, সামনে বাড়ছে শঙ্কা Logo শিক্ষানবিশে নতুন সুযোগ, আয় ও দক্ষতা বাড়বে ৬ মাসেই Logo আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন সুবিধা, চ্যাট হবে আরও আকর্ষণীয় Logo প্রাথমিক বৃত্তির নতুন হার নির্ধারণ, কত টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা?

কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আশাবাদী প্রতিবেদন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:২২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৫

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে কেপ ভার্দের অর্থনীতির ইতিবাচক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বকাপ ফুটবলে চমক দেখানোর পর এবার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অগ্রগতির খবর এসেছে দেশটি থেকে। সদ্য প্রকাশিত কান্ট্রি ইকোনমিক আপডেট ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, পর্যটনের প্রসার এবং উন্নত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কেপ ভার্দের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে। আফ্রিকার ছোট এই দ্বীপরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেপ ভার্দের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৩ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল রেকর্ডসংখ্যক বিদেশি পর্যটকের আগমন, অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা। একই সময়ে রাজস্ব আদায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটি আর্থিক উদ্বৃত্ত অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে পৌঁছেছে, যা প্রায় সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা রাখে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের দারিদ্র্যের হার ৫৩.৮ শতাংশ থেকে কমে ৫১.২ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি বেকারত্ব কমে ৬.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা শ্রমবাজারের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তবে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব এখনও ১৫ শতাংশের বেশি, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়ে ২.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যদিও তা এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

তবে ইতিবাচক অর্জনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি এবং দ্বীপগুলোর মধ্যে দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বিমান ও নৌপরিবহন ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতের বৈচিত্র্য তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব কর্মসংস্থানেও পড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের কেপ ভার্দে আবাসিক প্রতিনিধি ইন্দিরা কাম্পোস বলেছেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে আরও টেকসই করতে দ্বীপগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে, বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং দেশের সব অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারবেন।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৬ সালে কেপ ভার্দের প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে মধ্যমেয়াদে তা আবার ৫.১ শতাংশে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনের পাশাপাশি উৎপাদন, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কেপ ভার্দের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় ভিত্তি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকাশ হলো কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটি, সভাপতি নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান

কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আশাবাদী প্রতিবেদন

Update Time : ১০:২২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বকাপ ফুটবলে চমক দেখানোর পর এবার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অগ্রগতির খবর এসেছে দেশটি থেকে। সদ্য প্রকাশিত কান্ট্রি ইকোনমিক আপডেট ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, পর্যটনের প্রসার এবং উন্নত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কেপ ভার্দের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে। আফ্রিকার ছোট এই দ্বীপরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেপ ভার্দের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৩ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল রেকর্ডসংখ্যক বিদেশি পর্যটকের আগমন, অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা। একই সময়ে রাজস্ব আদায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটি আর্থিক উদ্বৃত্ত অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে পৌঁছেছে, যা প্রায় সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা রাখে।

আরও পড়ুন  গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল: চট্টগ্রাম চেম্বারের জরুরি দাবি

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের দারিদ্র্যের হার ৫৩.৮ শতাংশ থেকে কমে ৫১.২ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি বেকারত্ব কমে ৬.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা শ্রমবাজারের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তবে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব এখনও ১৫ শতাংশের বেশি, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়ে ২.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যদিও তা এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন  দেশের ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

তবে ইতিবাচক অর্জনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঝুঁকি এবং দ্বীপগুলোর মধ্যে দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বিমান ও নৌপরিবহন ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতের বৈচিত্র্য তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব কর্মসংস্থানেও পড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের কেপ ভার্দে আবাসিক প্রতিনিধি ইন্দিরা কাম্পোস বলেছেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে আরও টেকসই করতে দ্বীপগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে, বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং দেশের সব অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন  কেপ ভার্দের বিপক্ষে সমতায় ফিরল

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৬ সালে কেপ ভার্দের প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে মধ্যমেয়াদে তা আবার ৫.১ শতাংশে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনের পাশাপাশি উৎপাদন, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কেপ ভার্দের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় ভিত্তি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।