ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা: বৃষ্টি-বন্যায় সরবরাহে বড় সংকট

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:১৬:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৭

টানা বৃষ্টি ও বন্যায় ব্যাহত হয়েছে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, বাড়ছে দাম বাড়ার শঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে। টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যায় দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সবজি, শুকনা খাবার এবং কৃষিপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাসের কাজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যাহত ছিল। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানো হলেও গত কয়েকদিনে সেই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৫ থেকে ১০টিতে। এতে দেশজুড়ে আমদানি করা পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

মৌসুমি বৃষ্টিতে বিভিন্ন জেলার কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফলে ঢাকাসহ বড় শহরের পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে সবজির দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

অন্যদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম বাড়ায় চিড়া, মুড়ি, সেমাই, বিস্কুট, নুডলস ও খেজুরের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এর ফলে এসব পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিড়া, মুড়ি ও সেমাইয়ের দাম কেজিপ্রতি কয়েক টাকা বেড়েছে, আর খেজুরের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও আসাদগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা আসতে না পারায় বেচাকেনা কমে গেছে। একই সঙ্গে ট্রাক সংকট, জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি ও বন্যা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে সরবরাহ সংকট তীব্র হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের দাম-এর ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেব শুভশ্রীর পর এবার অভিমান ভুলে একসঙ্গে ফিরছেন রাজ ও মিমি

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা: বৃষ্টি-বন্যায় সরবরাহে বড় সংকট

Update Time : ০৯:১৬:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে। টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যায় দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সবজি, শুকনা খাবার এবং কৃষিপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাসের কাজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্যাহত ছিল। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানো হলেও গত কয়েকদিনে সেই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৫ থেকে ১০টিতে। এতে দেশজুড়ে আমদানি করা পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  ভোরে অঝোরে বৃষ্টি ঢাকায় জলাবদ্ধতা: বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ভোগান্তি

মৌসুমি বৃষ্টিতে বিভিন্ন জেলার কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফলে ঢাকাসহ বড় শহরের পাইকারি বাজারে কৃষিপণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে সবজির দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

অন্যদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম বাড়ায় চিড়া, মুড়ি, সেমাই, বিস্কুট, নুডলস ও খেজুরের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এর ফলে এসব পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিড়া, মুড়ি ও সেমাইয়ের দাম কেজিপ্রতি কয়েক টাকা বেড়েছে, আর খেজুরের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন  বাজেট, সীমান্ত হত্যা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও আসাদগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা আসতে না পারায় বেচাকেনা কমে গেছে। একই সঙ্গে ট্রাক সংকট, জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি ও বন্যা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে সরবরাহ সংকট তীব্র হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের দাম-এর ওপর।

আরও পড়ুন  চড়া সবজি-মুরগি-ডিমের বাজারে অস্বস্তি ঢাকায়