রুডিগারের অবসরের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জার্মানির জার্সিতে তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রা। ৩৩ বছর বয়সে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার। ফলে এখন থেকে আর জার্মানির জার্সিতে মাঠে দেখা যাবে না রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফুটবলারকে।
২০১৪ সালে জার্মান জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল অ্যান্টোনিও রুডিগারের। এরপর ধীরে ধীরে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডারে পরিণত হন তিনি। দীর্ঘ ১২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে জার্মানির হয়ে ৮৬টি ম্যাচ খেলেছেন রুডিগার এবং গোল করেছেন তিনটি।
জাতীয় দলের হয়ে বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও অংশ নিয়েছেন তিনি। জার্মানির জার্সিতে ছয়টি বড় প্রতিযোগিতায় খেলেছেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। ২০১৭ সালে কনফেডারেশনস কাপ জয়ী জার্মান দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
রুডিগারের অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে তরুণ ফুটবলারদের জন্য জায়গা করে দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। নিজের বিদায়বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, অনেক চিন্তাভাবনার পরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন জাতীয় দলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে বলেও মনে করেন তিনি।
নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন রুডিগার। ২০১৪ সালে প্রথমবার জার্মানির জার্সি গায়ে জড়ানোর সময় তিনি কখনো ভাবেননি যে একদিন দেশের হয়ে এত দীর্ঘ ক্যারিয়ার কাটাবেন। ৮৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াকে নিজের ফুটবল জীবনের বিশেষ অর্জন হিসেবেই দেখছেন এই তারকা ডিফেন্ডার।
জার্মানির রক্ষণভাগে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন রুডিগার। তার অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা দলকে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সহায়তা করেছে। তাই তার বিদায়ের পর জার্মান দলের রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতার একটি শূন্যতা তৈরি হতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় দিলেও পেশাদার ফুটবল থেকে সরে যাচ্ছেন না রুডিগার। জাতীয় দলের দায়িত্ব শেষ করে এবার ক্লাব ক্যারিয়ারেই পুরোপুরি মনোযোগ দিতে চান তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে তার জন্য।
রুডিগারের অবসর তাই তার ফুটবল জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। জার্মানির জার্সিতে দীর্ঘ ১২ বছর কাটানোর পর এবার ক্লাব ফুটবলে নিজের বাকি লক্ষ্যগুলো পূরণে মনোযোগী হবেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার ৮৬ ম্যাচের পথচলা অবশ্য জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
























