ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্যারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৫

বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনার পর শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনার প্যারেদেস। ছবি: সংগৃহীত

প্যারেদেস নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলে হারের পর মাঠে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো প্যারেদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা জাতীয় দলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কার্যকর হবে।

শাস্তি থেকে বাদ যাননি আর্জেন্টিনার আরও কয়েকজন। নাহুয়েল মোলিনাকে দেওয়া হয়েছে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৯০ হাজার ডলার জরিমানা। দলের কর্মকর্তা রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করে ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের খেলোয়াড় গাভিকেও এক ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষ বাঁশির পর। ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য ছিল। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ম্যাচের উত্তেজনার মধ্যেই প্যারেদেস লাল কার্ড দেখেন এবং পরে দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ফিফার তদন্তে প্যারেদেসের বিরুদ্ধে একাধিক আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ উঠে আসে। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষে তিনি স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে গলা ধরে টানেন এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। মোলিনার বিরুদ্ধেও ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনায় আগ্রাসী আচরণের অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করেই ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে ফিফা। এএফএকে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ডলার বৈষম্যবিরোধী একটি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি ঘরের ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর একটি ম্যাচের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং জরিমানার আরও ১ লাখ ডলারের অংশও স্থগিত রয়েছে।

বিশ্বকাপ চলাকালীন আরও কিছু ঘটনার বিষয়ও ফিফার শাস্তির আওতায় এসেছে। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। পাশাপাশি সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি এবং দলের আচরণ নিয়েও ফিফা ব্যবস্থা নিয়েছে। অর্থাৎ এবারের শাস্তি শুধু ফাইনালের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে নয়, টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ঘটনার সমন্বিত ফল।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পথে সরাসরি হাঁটছে না। তারা ফিফার শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আপিল ব্যর্থ হলে বিষয়টি স্পোর্টসের সর্বোচ্চ সালিশি সংস্থা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট বা CAS পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

ফিফার এই কঠোর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে প্যারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দলের মাঝমাঠের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশ্বকাপের ফাইনালের হতাশার পর মাঠের বাইরের ঘটনাও যে আর্জেন্টিনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার বড় বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্যারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা

Update Time : ১০:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

প্যারেদেস নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলে হারের পর মাঠে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো প্যারেদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা জাতীয় দলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কার্যকর হবে।

শাস্তি থেকে বাদ যাননি আর্জেন্টিনার আরও কয়েকজন। নাহুয়েল মোলিনাকে দেওয়া হয়েছে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৯০ হাজার ডলার জরিমানা। দলের কর্মকর্তা রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করে ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের খেলোয়াড় গাভিকেও এক ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনা ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ!

ঘটনার সূত্রপাত বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষ বাঁশির পর। ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য ছিল। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ম্যাচের উত্তেজনার মধ্যেই প্যারেদেস লাল কার্ড দেখেন এবং পরে দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ফিফার তদন্তে প্যারেদেসের বিরুদ্ধে একাধিক আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ উঠে আসে। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষে তিনি স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে গলা ধরে টানেন এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। মোলিনার বিরুদ্ধেও ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনায় আগ্রাসী আচরণের অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করেই ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে না খেলা ফুটবলার

শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে ফিফা। এএফএকে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ডলার বৈষম্যবিরোধী একটি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি ঘরের ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর একটি ম্যাচের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং জরিমানার আরও ১ লাখ ডলারের অংশও স্থগিত রয়েছে।

বিশ্বকাপ চলাকালীন আরও কিছু ঘটনার বিষয়ও ফিফার শাস্তির আওতায় এসেছে। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। পাশাপাশি সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি এবং দলের আচরণ নিয়েও ফিফা ব্যবস্থা নিয়েছে। অর্থাৎ এবারের শাস্তি শুধু ফাইনালের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে নয়, টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ঘটনার সমন্বিত ফল।

আরও পড়ুন  দোষ কি গোলরক্ষকদের, নাকি বিশ্বকাপের নতুন বলের?

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পথে সরাসরি হাঁটছে না। তারা ফিফার শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আপিল ব্যর্থ হলে বিষয়টি স্পোর্টসের সর্বোচ্চ সালিশি সংস্থা কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট বা CAS পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

ফিফার এই কঠোর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে প্যারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দলের মাঝমাঠের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশ্বকাপের ফাইনালের হতাশার পর মাঠের বাইরের ঘটনাও যে আর্জেন্টিনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার বড় বিষয়।