ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষার্থীদের প্রথম পরীক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

রাজশাহী কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। | ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হয়েছে। অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় তারা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার পর পরীক্ষায় বসতে পেরে স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে নিজ জেলা নাটোরের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় তাদের বাড়তি ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে বিশেষ ব্যবস্থায় এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী এবং আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।

ঘটনার শুরু ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে। আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ওই আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতার মুখে পড়েন। পরে বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের আশ্বাস পেয়ে তারা কলেজে গিয়ে টাকা জমা দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়নি। বিষয়টি জানার পর তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। একপর্যায়ে প্রবেশপত্র না থাকায় নির্ধারিত সময়ে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষাতেও অংশ নিতে পারেননি তারা। এতে তাদের পুরো এইচএসসি পরীক্ষা কার্যক্রম নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করা হয় এবং প্রবেশপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রথম পরীক্ষাটি কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। কারণ বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যে পেরিয়ে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার আয়োজন করে।

সোমবার রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। নাটোরের লালপুর থেকে রাজশাহী শহরের কেন্দ্রটি অনেক দূরে হওয়ায় তাদের আগেই সেখানে যেতে হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক জানান, বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্র হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে হয়েছে। অপরিচিত পরিবেশে থাকার কারণে কিছুটা সমস্যাও হয়েছে। তারপরও দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর মেয়েকে পরীক্ষার হলে বসাতে পারায় পরিবারের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। অন্য শিক্ষার্থীদের পরিবারেও একই ধরনের স্বস্তি দেখা গেছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানিয়েছেন, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আরও শিক্ষার্থীর বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ কয়েকটি বিষয়ের নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই বোর্ডের কাছাকাছি এলাকায় কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশ ও পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য জানতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট অনুসরণ করা যায়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ শুধু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়াতেই বিষয়টি শেষ হচ্ছে না; কীভাবে ফরম পূরণের নামে টাকা নেওয়া হলো এবং কেন তাদের ফরম পূরণ হয়নি, সেটিও তদন্তের আওতায় আসছে। বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আট শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের বড় অনিশ্চয়তা আপাতত দূর হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর কোনো পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক থাকা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষার্থীদের প্রথম পরীক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা

Update Time : ১১:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হয়েছে। অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় তারা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার পর পরীক্ষায় বসতে পেরে স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে নিজ জেলা নাটোরের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় তাদের বাড়তি ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে বিশেষ ব্যবস্থায় এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী এবং আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।

ঘটনার শুরু ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে। আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ওই আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতার মুখে পড়েন। পরে বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের আশ্বাস পেয়ে তারা কলেজে গিয়ে টাকা জমা দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়নি। বিষয়টি জানার পর তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। একপর্যায়ে প্রবেশপত্র না থাকায় নির্ধারিত সময়ে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষাতেও অংশ নিতে পারেননি তারা। এতে তাদের পুরো এইচএসসি পরীক্ষা কার্যক্রম নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন  বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা

পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করা হয় এবং প্রবেশপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর দ্বিতীয় পরীক্ষা থেকে বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে প্রথম পরীক্ষাটি কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। কারণ বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যে পেরিয়ে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত তাদের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার আয়োজন করে।

আরও পড়ুন  নওগাঁয় ট্রেনে কাটা পড়ে ১ জনের মৃত্যু

সোমবার রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। নাটোরের লালপুর থেকে রাজশাহী শহরের কেন্দ্রটি অনেক দূরে হওয়ায় তাদের আগেই সেখানে যেতে হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা ইমামুল হক জানান, বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কেন্দ্র হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে হয়েছে। অপরিচিত পরিবেশে থাকার কারণে কিছুটা সমস্যাও হয়েছে। তারপরও দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর মেয়েকে পরীক্ষার হলে বসাতে পারায় পরিবারের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। অন্য শিক্ষার্থীদের পরিবারেও একই ধরনের স্বস্তি দেখা গেছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানিয়েছেন, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আরও শিক্ষার্থীর বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যাসহ কয়েকটি বিষয়ের নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই বোর্ডের কাছাকাছি এলাকায় কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশ ও পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য জানতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট অনুসরণ করা যায়।

আরও পড়ুন  এসএসসি-এইচএসসি প্রশ্নপত্র তৈরি হয় যেভাবে, জানুন পুরো প্রক্রিয়া

এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ শুধু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়াতেই বিষয়টি শেষ হচ্ছে না; কীভাবে ফরম পূরণের নামে টাকা নেওয়া হলো এবং কেন তাদের ফরম পূরণ হয়নি, সেটিও তদন্তের আওতায় আসছে। বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আট শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের বড় অনিশ্চয়তা আপাতত দূর হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর কোনো পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক থাকা জরুরি।