সামিয়া আফরিনের ক্যানসার যুদ্ধ নতুন এক কঠিন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাঁচ বছর ধরে ম্যালিগন্যান্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক সম্প্রতি ফের অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ চিকিৎসা ও ইমিউনোথেরাপির পর তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ স্থিতিশীল হয়ে এসেছিল এবং তিনি স্বাভাবিক কর্মজীবনেও ফিরেছিলেন। তবে সেই স্বস্তির মাঝেই তিন মাস আগে তাঁর শরীরে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যানসার ধরা পড়ে। এবার তিনি ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসকেরা এটিকে ‘হাই-গ্রেড কার্সিনোমা’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমবার ক্যানসার মোকাবিলার সময় সামিয়া আফরিনকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল, ফলে সেবার কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়নি। তবে এবার ক্যানসারের ধরন বেশ জটিল হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে নিয়মিত কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। পাঁচ বছরের এই নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামে এবারই প্রথম কেমোথেরাপির কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন সামিয়া আফরিনের ক্যারিয়ার ও জীবনসংগ্রাম সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি।
কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মাথার চুল পড়ে যেতে পারে—চিকিৎসকদের কাছে এই তথ্য জানার পর ভেঙে পড়েননি সামিয়া আফরিন। পরিস্থিতিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করে তিনি নিজেই চুল কেটে ছোট করে নতুন লুক তৈরি করেন এবং সেই পরিবর্তনের ভিডিও ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন। সামিয়া আফরিনের ক্যানসার যুদ্ধ কেবল একটি রোগের চিকিৎসা নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মন খারাপ না করে সময়ের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়াকেই তিনি আসল মানসিক শক্তি বলে মনে করেন।
জীবনের এই কঠিন সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল ২০২২ সালের এপ্রিলে। তখন শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে ঢাকার হাসপাতালে পরীক্ষার পর তাঁর শরীরে টিউমার ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে উন্নত পরীক্ষার পর জানা যায় তিনি চতুর্থ ধাপের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত। ক্যানসার ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ায় শুরুতে ধাক্কা খেলেও তিনি চিকিৎসা বন্ধ করেননি। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে টানা দুই বছর ২১ দিন পর পর ব্যয়বহুল ইমিউনোথেরাপি নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ইমিউনোথেরাপির দিনগুলো অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। থেরাপির পর তীব্র শারীরিক দুর্বলতা, ত্বকের সমস্যা ও অবসাদ সত্ত্বেও সামিয়া আফরিন নিজেকে ‘অসুস্থ’ ভাবতে চাননি। তিনি মানুষের সহানুভূতি এড়িয়ে চলতে ক্যানসারের খবর দীর্ঘ সময় গোপনে রেখেছিলেন। চিকিৎসার ডোজ নেওয়ার মাত্র আধঘণ্টা পরই তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় যোগ দিতেন বা অফিসের কাজ করতেন। কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানসিক জোরে দুই বছর পর ক্যানসারের জীবাণুকে সুপ্ত অবস্থায় নিয়ে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন তিনি।
বর্তমানে ক্যানসারের নতুন ধাক্কায় আবার কেমোথেরাপি শুরু হলেও সামিয়া আফরিনের ক্যানসার যুদ্ধ আগের মতোই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান। জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতা কেবল ভুক্তভোগীরাই অনুধাবন করতে পারেন উল্লেখ করে তিনি সবার কাছে পরম করুণাময়ের কৃপা ও দোয়া প্রার্থনা করেছেন। শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তরা আশা করছেন, নিজের অদম্য মনোবল দিয়ে সামিয়া আফরিন আবারও এই কঠিন পরিস্থিতি পার হয়ে খুব দ্রুত সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।


























