ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে যে বার্তা দিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Logo নীরব ঘাতক প্রোস্টেট ক্যানসার, সচেতন না হলে বাড়তে পারে ঝুঁকি Logo ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির পথে সিরিয়া? মুখ খুললেন আল-শারা Logo আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকছে টানা ২৩ দিনের ছুটি Logo গ্যাস সংকটে ধুঁকছে শিল্প, ঝুঁকিতে রফতানি ও লাখো কর্মসংস্থান Logo প্রতিদিন চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাচ্ছেন? জানুন শরীরে কী ঘটতে পারে Logo চন্দনাইশ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হলেন ফুটবলার মোঃ মোজাম্মেল হক Logo ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কার Logo সাইবর্গ তেলাপোকা তৈরি, পানির নিচেও চলবে ৩ ঘণ্টা Logo নো-বেক পিনাট বাটার বার, ওভেন ছাড়াই ১৫ মিনিটে তৈরি সুস্বাদু ডেজার্ট

নীরব ঘাতক প্রোস্টেট ক্যানসার, সচেতন না হলে বাড়তে পারে ঝুঁকি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

৫০ বছরের পর পুরুষদের নিয়মিত প্রোস্টেট পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেটজনিত নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ৫০ বছরের পর প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া (বিনাইন প্রোস্টেট হাইপারপ্লাসিয়া) এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা ও সচেতনতা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।

প্রোস্টেট হলো পুরুষদের মূত্রথলির নিচে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি, যা বীর্যের গুরুত্বপূর্ণ তরল উৎপাদন করে। বয়সের সঙ্গে এটি বড় হতে পারে, ফলে বারবার প্রস্রাবের চাপ, প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া, প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল হওয়া, রাতে বারবার বাথরুমে যেতে হওয়া কিংবা প্রস্রাবের পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই এসব লক্ষণকে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ একই ধরনের উপসর্গ প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবে রক্ত, বীর্যে রক্ত, কোমর বা হাড়ে ব্যথার মতো লক্ষণও দেখা যায়। তাই দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে অবশ্যই ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের মতে, বয়স ৫০ বছরের বেশি হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। আর যাদের পরিবারে বাবা বা ভাইয়ের প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ৪৫ বছর বয়স থেকেই স্ক্রিনিং শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পিএসএ (PSA) রক্ত পরীক্ষা, ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (DRE), আলট্রাসনোগ্রাম, এমআরআই বা বায়োপসির পরামর্শ দিতে পারেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোস্টেট ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা না গেলেও বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ফলমূল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এবং ধূমপান পরিহার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রোস্টেট ক্যানসার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই লজ্জা বা অবহেলা না করে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকরা আরও বলেন, পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এখনো তুলনামূলক কম। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রোস্টেট সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে অনেক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই ৫০ বছরের পর প্রোস্টেট পরীক্ষা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে যে বার্তা দিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

নীরব ঘাতক প্রোস্টেট ক্যানসার, সচেতন না হলে বাড়তে পারে ঝুঁকি

Update Time : ০১:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রোস্টেটজনিত নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ৫০ বছরের পর প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া (বিনাইন প্রোস্টেট হাইপারপ্লাসিয়া) এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা ও সচেতনতা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।

প্রোস্টেট হলো পুরুষদের মূত্রথলির নিচে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি, যা বীর্যের গুরুত্বপূর্ণ তরল উৎপাদন করে। বয়সের সঙ্গে এটি বড় হতে পারে, ফলে বারবার প্রস্রাবের চাপ, প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া, প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল হওয়া, রাতে বারবার বাথরুমে যেতে হওয়া কিংবা প্রস্রাবের পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  স্বাস্থ্যখাতের অবক্ষয় ও বিদেশমুখী চিকিৎসা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই এসব লক্ষণকে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অথচ একই ধরনের উপসর্গ প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবে রক্ত, বীর্যে রক্ত, কোমর বা হাড়ে ব্যথার মতো লক্ষণও দেখা যায়। তাই দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে অবশ্যই ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের মতে, বয়স ৫০ বছরের বেশি হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। আর যাদের পরিবারে বাবা বা ভাইয়ের প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ৪৫ বছর বয়স থেকেই স্ক্রিনিং শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পিএসএ (PSA) রক্ত পরীক্ষা, ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (DRE), আলট্রাসনোগ্রাম, এমআরআই বা বায়োপসির পরামর্শ দিতে পারেন।

আরও পড়ুন  বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মানুষরা প্রতিদিন সকালে কী খান | দীর্ঘজীবী মানুষের সকালের খাবার

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোস্টেট ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা না গেলেও বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ফলমূল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এবং ধূমপান পরিহার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রোস্টেট ক্যানসার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই লজ্জা বা অবহেলা না করে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  প্রেগনেন্সিতে মায়ের সঠিক পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা

চিকিৎসকরা আরও বলেন, পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এখনো তুলনামূলক কম। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রোস্টেট সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে অনেক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই ৫০ বছরের পর প্রোস্টেট পরীক্ষা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।