ফুসফুসের ক্ষতি শুধু ধূমপানের কারণেই হয় না, দীর্ঘদিন কাঠ, খড়, গোবর, কয়লা বা বায়োমাস জ্বালানির ধোঁয়ার সংস্পর্শেও হতে পারে। বিশেষ করে ঘরের ভেতরে রান্নার ধোঁয়া নিয়মিত গ্রহণ করলে শ্বাসতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ধরনের ধোঁয়ার সংস্পর্শে সিওপিডি বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের মতো রোগ হতে পারে।
সিওপিডি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এতে শ্বাসনালি সরু হয়ে যায় এবং ফুসফুসের বায়ুথলি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শরীরে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশে সমস্যা হয় এবং সময়ের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে। দীর্ঘদিনের কাশি, কফ, হাঁটা বা সিঁড়ি ওঠার সময় শ্বাসকষ্ট এবং শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ এ রোগের সাধারণ লক্ষণ।
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান, রান্নার ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, ধুলাবালু ও রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ সিওপিডির অন্যতম কারণ। ইটভাটা, কারখানা বা ধুলাবালুপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্যক্তিরাও ঝুঁকিতে থাকেন। ৪০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ, দীর্ঘদিনের ধূমপায়ী এবং জ্বালানি কাঠ বা অন্যান্য ধোঁয়াযুক্ত জ্বালানি দিয়ে রান্না করেন এমন নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
তিন মাসের বেশি সময় ধরে কাশি থাকা, কফের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, হাঁটতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা বারবার শ্বাসকষ্টের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক ইতিহাস ও পরীক্ষা করার পাশাপাশি স্পাইরোমেট্রি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাও পরীক্ষা করা হতে পারে।
ফুসফুসের ক্ষতি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। সিওপিডি শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনহেলার ব্যবহার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নেবুলাইজেশন নিতে হতে পারে। রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার টিকা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অক্সিজেন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনহেলার বা নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।
রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং সম্ভব হলে কাঠ বা খড়ের চুলার পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা ও শ্বাসের ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। ধুলাবালু ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কাশি বা শ্বাসকষ্টকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।




























