ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে ৭টি সহজ অভ্যাস Logo ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে পৌঁছেছেন পুতিন Logo দুদক বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ Logo বাব আল-মান্দেব দখলে হুতিদের বড় অগ্রগতি, বাড়ছে জ্বালানি সংকট Logo ফিল্ড ফায়ারিং দুর্ঘটনায় আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী Logo হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তিতে সরকারের নজর, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও বড় সিদ্ধান্তের আভাস Logo স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপির নতুন কৌশল, বিদ্রোহ ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে দল Logo হাসপাতালের দুর্নীতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘হয় আমি থাকব, না হয় অনিয়ম’ Logo ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান Logo কাউন্টিতে দুর্দান্ত হাসান মাহমুদ, প্রতি ৫ ওভারে নিচ্ছেন একটি উইকেট

হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে ৭টি সহজ অভ্যাস

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০০

হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে পারে যে ৭ অভ্যাস| ছবি: সংগৃহীত

১. ঘুমকে দিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব

হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত ও পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে কর্টিসল, ইনসুলিনসহ বিভিন্ন হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা ভালো। রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানোও উপকারী হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্য ও পর্যাপ্ত ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ | ছবি: সংগৃহীত

২. খাবারে রাখুন পুষ্টির ভারসাম্য
শরীরের স্বাভাবিক হরমোন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পূর্ণ শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, শাকসবজি ও ফলমূল রাখার চেষ্টা করুন। আঁশ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি কমিয়ে পরিমিত ও বৈচিত্র্যময় খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

আরও পড়ুন  ৬০ পেরিয়ে পেটের মেদ কমাতে বিছানায় করুন ৫ সহজ ব্যায়াম
হরমোনের ভারসাম্য রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার
সুষম খাবার সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ | ছবি: সংগৃহীত

৩. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটা, গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান, বই পড়া কিংবা পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটানো যেতে পারে। প্রকৃতির মধ্যে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটিও মনকে শান্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

হরমোনের ভারসাম্য মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
হরমোনের ভারসাম্য মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ | ছবি: সংগৃহীত

৪. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার, যোগব্যায়াম কিংবা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের মতো কার্যক্রম নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়। নিয়মিত শরীরচর্চা ইনসুলিনের কার্যকারিতা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাই ভালো।

আরও পড়ুন  চুল পড়া কমাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, খাবারে রাখুন এই ৫টি খাবার
হরমোনের ভারসাম্য ও নিয়মিত শরীরচর্চা
নিয়মিত শরীরচর্চা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী | ছবি: সংগৃহীত

৫. স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখুন
শরীরের ওজন খুব কম বা অতিরিক্ত বেশি হলে বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত ওজন কমানোর কঠোর ডায়েট অনুসরণ না করে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা যায়—এমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা ভালো। ওজন নিয়ে সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন  শিশু ডিহাইড্রেশন সম্পর্কে জানা জরুরি লক্ষণ ও করণীয়
হরমোনের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্যকর ওজন
হরমোনের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্যকর ওজন | ছবি: সংগৃহীত

৬. শরীরের অস্বাভাবিক সংকেত অবহেলা করবেন না
মাসিক অনিয়মিত হওয়া, হঠাৎ ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ব্রণ, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কিংবা অস্বাভাবিক চুল পড়ার মতো পরিবর্তন বারবার দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। এসব লক্ষণের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে হরমোনসংক্রান্ত সমস্যাও থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে ৭টি সহজ অভ্যাস

হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে ৭টি সহজ অভ্যাস

Update Time : ০৬:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১. ঘুমকে দিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব

হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত ও পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে কর্টিসল, ইনসুলিনসহ বিভিন্ন হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা ভালো। রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানোও উপকারী হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্য ও পর্যাপ্ত ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ | ছবি: সংগৃহীত

২. খাবারে রাখুন পুষ্টির ভারসাম্য
শরীরের স্বাভাবিক হরমোন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পূর্ণ শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, শাকসবজি ও ফলমূল রাখার চেষ্টা করুন। আঁশ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি কমিয়ে পরিমিত ও বৈচিত্র্যময় খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

আরও পড়ুন  রিডিং ল্যাম্প জ্বালিয়ে রাতে চোখ ও ঘুম ভালো রাখার উপায়!
হরমোনের ভারসাম্য রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার
সুষম খাবার সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ | ছবি: সংগৃহীত

৩. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটা, গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান, বই পড়া কিংবা পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটানো যেতে পারে। প্রকৃতির মধ্যে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটিও মনকে শান্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

হরমোনের ভারসাম্য মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
হরমোনের ভারসাম্য মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ | ছবি: সংগৃহীত

৪. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার, যোগব্যায়াম কিংবা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের মতো কার্যক্রম নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়। নিয়মিত শরীরচর্চা ইনসুলিনের কার্যকারিতা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাই ভালো।

আরও পড়ুন  নাক ডাকা কমানোর ১০ কার্যকর ঘরোয়া উপায়
হরমোনের ভারসাম্য ও নিয়মিত শরীরচর্চা
নিয়মিত শরীরচর্চা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী | ছবি: সংগৃহীত

৫. স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখুন
শরীরের ওজন খুব কম বা অতিরিক্ত বেশি হলে বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত ওজন কমানোর কঠোর ডায়েট অনুসরণ না করে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা যায়—এমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা ভালো। ওজন নিয়ে সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি: ১৪০টির বেশি দেশে পৌঁছেছে দেশীয় ওষুধ
হরমোনের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্যকর ওজন
হরমোনের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্যকর ওজন | ছবি: সংগৃহীত

৬. শরীরের অস্বাভাবিক সংকেত অবহেলা করবেন না
মাসিক অনিয়মিত হওয়া, হঠাৎ ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ব্রণ, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কিংবা অস্বাভাবিক চুল পড়ার মতো পরিবর্তন বারবার দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। এসব লক্ষণের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে হরমোনসংক্রান্ত সমস্যাও থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।