ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালাকের জেরে বাবা-মা বাড়িছাড়া, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তালাকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন। | ছবি: সংগৃহীত

তালাকের জেরে বাবা-মা বাড়িছাড়া—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামে এমন অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। ছেলে রিফাত পারভেজ শাওনের সঙ্গে নিশা আক্তারের বিয়ে ও পরবর্তী তালাককে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন দুই পরিবার। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন শাওনের বাবা ব্যবসায়ী কামাল পারভেজ ও তার স্ত্রী শিরিন সুলতানা। সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা।

কামাল পারভেজের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলে পরিবারের অজান্তে সরাইলের পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া গ্রামের কিবরু মিয়ার মেয়ে নিশা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন কামাল। তার অভিযোগ, বিরোধের জেরে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং অর্থ দাবির ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে কামাল পারভেজ দাবি করেন, গত ৪ আগস্ট অরুয়াইল বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একদল লোক হামলা চালায়। পরে তার কাছে মোট ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা তালাকের কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এবং বাকি ২০ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে পরিবারকে চরম পরিণতির মুখে পড়তে হবে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জানানো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বলে অভিযোগ তার।

কামালের অভিযোগ, ১৭ আগস্ট রাতে কিবরু মিয়াসহ কয়েকজন অরুয়াইলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। এসব ঘটনার পর থেকেই তিনি ও তার স্ত্রী বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানান। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং আদালত তদন্তের জন্য মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মামলায় যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়াসহ কিবরু মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, ইয়াসমিন ও নিশা আক্তারের নাম রয়েছে বলে জানান কামাল।

তবে কামাল পারভেজের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়া। তার দাবি, নিশা তখন নাবালিকা ছিলেন এবং শাওন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার পর কিবরু মিয়া বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন, কিন্তু সমাধান না হওয়ায় ১৪ আগস্ট সরাইল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় জুনাইদকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জুনাইদের ভাষ্য, এর প্রতিক্রিয়ায় কামাল পারভেজ তার বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেছেন।

ঘটনাটি নিয়ে এখন দুই পক্ষের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি। এক পক্ষ নিরাপত্তাহীনতা, হামলা ও অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছে; অন্য পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের মামলার পাশাপাশি ডিবি পুলিশের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তালাকের জেরে বাবা-মা বাড়িছাড়া, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

Update Time : ১২:০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

তালাকের জেরে বাবা-মা বাড়িছাড়া—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামে এমন অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। ছেলে রিফাত পারভেজ শাওনের সঙ্গে নিশা আক্তারের বিয়ে ও পরবর্তী তালাককে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন দুই পরিবার। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন শাওনের বাবা ব্যবসায়ী কামাল পারভেজ ও তার স্ত্রী শিরিন সুলতানা। সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা।

কামাল পারভেজের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলে পরিবারের অজান্তে সরাইলের পাকশিমুল ইউনিয়নের বড়ইছড়া গ্রামের কিবরু মিয়ার মেয়ে নিশা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরে দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন কামাল। তার অভিযোগ, বিরোধের জেরে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং অর্থ দাবির ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।

আরও পড়ুন  শিক্ষক কর্মচারীর জন্য বড় সুখবরঃ শুরু হচ্ছে অর্থ বিতরণ

সংবাদ সম্মেলনে কামাল পারভেজ দাবি করেন, গত ৪ আগস্ট অরুয়াইল বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একদল লোক হামলা চালায়। পরে তার কাছে মোট ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা তালাকের কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এবং বাকি ২০ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে পরিবারকে চরম পরিণতির মুখে পড়তে হবে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জানানো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বলে অভিযোগ তার।

কামালের অভিযোগ, ১৭ আগস্ট রাতে কিবরু মিয়াসহ কয়েকজন অরুয়াইলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন এবং টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। এসব ঘটনার পর থেকেই তিনি ও তার স্ত্রী বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানান। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং আদালত তদন্তের জন্য মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মামলায় যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়াসহ কিবরু মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, ইয়াসমিন ও নিশা আক্তারের নাম রয়েছে বলে জানান কামাল।

আরও পড়ুন  কাতারে গ্যাস স্থাপনায় বিস্ফোরণে নিহত ১৩, আহত ৬৬

তবে কামাল পারভেজের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা জুনাইদ মিয়া। তার দাবি, নিশা তখন নাবালিকা ছিলেন এবং শাওন তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার পর কিবরু মিয়া বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন, কিন্তু সমাধান না হওয়ায় ১৪ আগস্ট সরাইল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় জুনাইদকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জুনাইদের ভাষ্য, এর প্রতিক্রিয়ায় কামাল পারভেজ তার বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেছেন।

আরও পড়ুন  বিএনপি নেতাসহ ১৫ জনের নামে বিজিবির মামলা

ঘটনাটি নিয়ে এখন দুই পক্ষের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি। এক পক্ষ নিরাপত্তাহীনতা, হামলা ও অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছে; অন্য পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। ফলে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের মামলার পাশাপাশি ডিবি পুলিশের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।