মেসির অবসরের ঘোষণায় ফুটবলবিশ্বে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। ফুটবলের এই কিংবদন্তির বিদায়ে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনিও।
মেসির অবসর নিয়ে মরিনিওর প্রতিক্রিয়া এসেছে আর্জেন্টাইন তারকার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মন্তব্যে। সেখানে মেসির অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে তার অনুপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত এই কোচ।
মরিনিওর মতে, মেসিকে ছাড়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক আসরগুলোর আবহই বদলে যাবে। তিনি মনে করেন, মেসি না থাকায় পরবর্তী কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ দর্শকদের কাছে আগের মতো অনুভূত হবে না।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান মেসি। দীর্ঘ সময় চিন্তা-ভাবনার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
মেসি জানান, সিদ্ধান্তটি নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার পর এবার সরে যাওয়ার সময় এসেছে—এমন উপলব্ধি থেকেই তিনি সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। বিষয়টি তাকে এখনো ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও নিজের বার্তায় জানিয়েছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ছিল সাফল্য ও সংগ্রামে ভরা। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তাকে নানা চাপ ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে জাতীয় দলের জার্সির প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা থেকে কখনো সরে যাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
মেসির বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোর সাফল্যের সময় নয়, তার আগেও আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দেশের জার্সির জন্য মাঠে লড়াই করা এবং সমর্থকদের আনন্দ দেওয়াই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সাফল্য। জাতীয় দলের হয়ে বড় শিরোপা জয়ের পর তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আরও পূর্ণতা পায়। ফলে অবসরের ঘোষণা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আরও আবেগের হয়ে উঠেছে।
মেসির সেই বিদায়ী বার্তার নিচেই মন্তব্য করেন মরিনিও। তিনি লেখেন, একটি অসাধারণ ও স্মরণীয় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য মেসিকে অভিনন্দন। ছোট্ট এই বার্তার মধ্যেই ফুটবল ইতিহাসে মেসির অবস্থান সম্পর্কে মরিনিওর মূল্যায়ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে মরিনিওর মন্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল মেসির অনুপস্থিতি নিয়ে তার বক্তব্য। তিনি মনে করেন, আগামী দিনের বড় টুর্নামেন্টগুলোতে মেসিকে না দেখার অভাব সমর্থকরা অনুভব করবেন। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে মেসির উপস্থিতি যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করত, সেটিই ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।
মেসির অবসর শুধু আর্জেন্টিনা দলের জন্য নয়, পুরো আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্যও একটি বড় পরিবর্তন। কারণ বছরের পর বছর ধরে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও অন্যান্য বড় আসরে মেসিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার অসাধারণ ড্রিবলিং, গোল, অ্যাসিস্ট ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাকে বিশ্বজুড়ে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
এখন মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ দল কেমন হবে, সেটিই ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের বড় বিষয়। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সামনে এখন দায়িত্ব থাকবে দলের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।
অন্যদিকে মেসির অবসর নিয়ে মরিনিওর আবেগঘন মন্তব্য আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, আর্জেন্টাইন তারকার প্রভাব শুধু একটি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোকেও বিশেষ আকর্ষণ এনে দিয়েছে।
মেসির বিদায়ের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন তারকারা আলো ছড়াবেন, নতুন গল্প তৈরি হবে। তবে ফুটবল ইতিহাসের যে অধ্যায়ে লিওনেল মেসি নিজের ছাপ রেখে গেছেন, সেই অধ্যায়কে সহজে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। মরিনিওর কথাতেও যেন সেই অনুভূতিই ফুটে উঠেছে—মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ সত্যিই অন্যরকম হবে।




















