ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেনশন: পাঁচ ধাপে বাড়ছে, সর্বোচ্চ দ্বিগুণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:১০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০২

নতুন বেতনকাঠামোয় পাঁচ ধাপে বাড়ছে পেনশন। ছবি: সংগৃহীত

পেনশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিট পেনশন পাঁচটি স্তরে বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যাঁরা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং বর্তমানে তুলনামূলক কম পেনশন পান, তাঁদের জন্য বাড়তি সুবিধা রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়বে। ফলে কম পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের মাসিক আয় তুলনামূলক বেশি হারে বাড়বে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর এসব তথ্য জানানো হয়। পরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাঁদের মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা এর কম, তাঁদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান পেনশনের সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ যোগ হবে। ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধি হবে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার এক টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বাড়বে ৬৫ শতাংশ। ৩০ হাজার এক টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ। আর ৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ। এই কাঠামোর ফলে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরাই শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অবসরভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান পেনশন দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা, ওষুধ ও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়। নতুন ব্যবস্থায় স্তরভেদে পেনশন বাড়ানোর মাধ্যমে সেই চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা শুধু কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অবসর নেওয়া ব্যক্তিরাও এর আওতায় বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

তবে পেনশন বৃদ্ধির এই ব্যবস্থা স্থায়ী ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে আপাতত চালু করা হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই একই সঙ্গে এই ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু এখনই এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি অসামরিক কর্মচারীদের মধ্যে ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্যও সরকারের হাতে সম্পূর্ণভাবে নেই। এসব কারণে এক ধাপে নয়, পর্যায়ক্রমে পুরো ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, একই গ্রেড বা পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে পেনশনের বৈষম্য কমিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা। সামরিক ও অসামরিক—দুই ধরনের অবসরভোগীকেই একই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তবে এই কাঠামো বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। তাই আপাতত স্তরভিত্তিক পেনশন বৃদ্ধিকে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে সরকার।

সব মিলিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে অবসরভোগীদের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তির একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। অন্যদিকে উচ্চ পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হলেও তাঁরাও বাড়তি অর্থ পাবেন। এখন নজর থাকবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বাস্তবায়নের অগ্রগতির দিকে। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে পারলে অবসরভোগীদের দীর্ঘদিনের পেনশন বৈষম্যও অনেকটাই কমতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেনশন: পাঁচ ধাপে বাড়ছে, সর্বোচ্চ দ্বিগুণ

Update Time : ১০:১০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

পেনশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিট পেনশন পাঁচটি স্তরে বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যাঁরা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং বর্তমানে তুলনামূলক কম পেনশন পান, তাঁদের জন্য বাড়তি সুবিধা রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়বে। ফলে কম পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের মাসিক আয় তুলনামূলক বেশি হারে বাড়বে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর এসব তথ্য জানানো হয়। পরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাঁদের মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা এর কম, তাঁদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান পেনশনের সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ যোগ হবে। ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধি হবে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার এক টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বাড়বে ৬৫ শতাংশ। ৩০ হাজার এক টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ। আর ৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ। এই কাঠামোর ফলে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরাই শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।

আরও পড়ুন  ফিফা বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচ, ইতিহাসের নতুন মাইলফলক

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অবসরভোগীদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান পেনশন দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা, ওষুধ ও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়। নতুন ব্যবস্থায় স্তরভেদে পেনশন বাড়ানোর মাধ্যমে সেই চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা শুধু কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অবসর নেওয়া ব্যক্তিরাও এর আওতায় বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

আরও পড়ুন  ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বরখাস্ত: ইংল্যান্ড টেস্ট কোচে বড় পরিবর্তন

তবে পেনশন বৃদ্ধির এই ব্যবস্থা স্থায়ী ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে আপাতত চালু করা হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই একই সঙ্গে এই ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু এখনই এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি অসামরিক কর্মচারীদের মধ্যে ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্যও সরকারের হাতে সম্পূর্ণভাবে নেই। এসব কারণে এক ধাপে নয়, পর্যায়ক্রমে পুরো ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, একই গ্রেড বা পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে পেনশনের বৈষম্য কমিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা। সামরিক ও অসামরিক—দুই ধরনের অবসরভোগীকেই একই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তবে এই কাঠামো বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। তাই আপাতত স্তরভিত্তিক পেনশন বৃদ্ধিকে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে সরকার।

আরও পড়ুন  আজ টিভিতে যা দেখবেন

সব মিলিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে অবসরভোগীদের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তির একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। অন্যদিকে উচ্চ পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হলেও তাঁরাও বাড়তি অর্থ পাবেন। এখন নজর থাকবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বাস্তবায়নের অগ্রগতির দিকে। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে পারলে অবসরভোগীদের দীর্ঘদিনের পেনশন বৈষম্যও অনেকটাই কমতে পারে।