ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়েছে, সর্বোচ্চ উৎপাদনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫২

কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়েছে, সর্বোচ্চ উৎপাদনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র

কাপ্তাই হ্রদের পানি টানা ভারী বর্ষণের কারণে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে রাঙামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চলতি বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন হিসেবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল প্রায় ৭৮ ফুট মিন সি লেভেলের কাছাকাছি। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে সেই পানি বেড়ে ১০২ দশমিক ২৫ ফুট মিন সি লেভেলে পৌঁছেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পানির এই বড় বৃদ্ধি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। পানি বাড়ার কারণে প্রতিটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২২২ মেগাওয়াট, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ছিল ১০২ দশমিক ২৫ ফুট মিন সি লেভেল। একই সময়ে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াটের বেশি ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে হ্রদে পানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ডিসেম্বর থেকে উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। দীর্ঘদিন পর আবারও পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে গেলে উৎপাদনও কমে যায়।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে এই কেন্দ্রের অবদান উল্লেখযোগ্য। উৎপাদন বাড়লে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ কিছুটা কমে এবং জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পায়।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আরও কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে পানি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সব মিলিয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন নতুন গতি পেয়েছে। পর্যাপ্ত পানি থাকলে আগামী দিনগুলোতেও উৎপাদন সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরান খান: কারাবাস নিয়ে ছেলেদের শঙ্কার নেপথ্যে

কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়েছে, সর্বোচ্চ উৎপাদনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র

Update Time : ০৯:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কাপ্তাই হ্রদের পানি টানা ভারী বর্ষণের কারণে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে রাঙামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চলতি বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন হিসেবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল প্রায় ৭৮ ফুট মিন সি লেভেলের কাছাকাছি। তবে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে সেই পানি বেড়ে ১০২ দশমিক ২৫ ফুট মিন সি লেভেলে পৌঁছেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পানির এই বড় বৃদ্ধি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। পানি বাড়ার কারণে প্রতিটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২২২ মেগাওয়াট, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ছিল ১০২ দশমিক ২৫ ফুট মিন সি লেভেল। একই সময়ে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াটের বেশি ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে হ্রদে পানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ডিসেম্বর থেকে উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। দীর্ঘদিন পর আবারও পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে গেলে উৎপাদনও কমে যায়।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে এই কেন্দ্রের অবদান উল্লেখযোগ্য। উৎপাদন বাড়লে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ কিছুটা কমে এবং জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পায়।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আরও কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে পানি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সব মিলিয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন নতুন গতি পেয়েছে। পর্যাপ্ত পানি থাকলে আগামী দিনগুলোতেও উৎপাদন সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।