ডাটা প্রকাশে স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর তাগিদ অর্থমন্ত্রীর
দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তথ্য বা ডাটা প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব আরও জোরদার করতে হবে। এতে সরকারি পরিসংখ্যানের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে সময়োপযোগী ও নির্ভুল তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই পরিসংখ্যান প্রস্তুত ও প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি তথ্য প্রকাশে কোনো ধরনের অযাচিত প্রভাব বা বিলম্ব থাকলে নীতিনির্ধারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং বিগ ডাটা বিশ্লেষণের যুগে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য নিরূপণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে সঠিক তথ্য অপরিহার্য।
তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান। এতে গবেষণার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রণয়ন সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান বজায় রেখে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা অর্জন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নযাত্রা আরও গতিশীল করতে হলে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে স্বাধীন, নির্ভুল, সময়োপযোগী এবং পেশাদার পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।




























