আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু দেশের শিক্ষা ও সাহিত্য অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলা একাডেমির সভাপতি এবং বিশিষ্ট লেখক-গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণে বিভিন্ন মহল থেকে শোক জানানো হচ্ছে। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণা অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান লেখক, গবেষক এবং আদর্শ শিক্ষক। তিনি শুধু জ্ঞানচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশের শিক্ষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক প্রার্থনা করেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু উপলক্ষে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও পৃথক শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, একজন জ্ঞানী শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক হিসেবে তিনি দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সমাজ নিয়ে তাঁর গবেষণাধর্মী লেখাগুলো আগামী প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা অঙ্গন একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদকে হারাল।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে আবুল কাসেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেছেন। তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজচিন্তা নিয়ে অসংখ্য গ্রন্থ ও গবেষণাপত্র রচনা করেছেন। তাঁর লেখায় মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রতিফলন দেখা যায়। শিক্ষাবিদদের মতে, তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম ভবিষ্যতেও গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হবে।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুর খবরে শিক্ষক, সাহিত্যিক, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষার্থীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর স্মৃতিচারণ করে অসংখ্য মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অনেকেই লিখেছেন, তিনি ছিলেন একজন নিরহংকার শিক্ষক, যিনি জ্ঞান বিতরণকে নিজের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য ও শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
দেশের শিক্ষা ও সাহিত্যজগতের অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবুল কাসেম ফজলুল হক আজীবন জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। তাঁর কর্ম, চিন্তা ও লেখনী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং সমগ্র দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির জন্য বড় ক্ষতি। তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


























