ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৯ আগস্ট চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে বড় কর্মসূচি Logo বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, রাত পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থান Logo সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কেন সতর্ক করল সরকার? Logo ঘরেই বানান রেস্টুরেন্ট স্টাইল ক্রিস্পি পটেটো ওয়েজেস Logo সুখবর! সৌদি উপমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখেরেজির ঢাকা সফর এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা Logo ইলিয়াস কাঞ্চন দেশে ফিরলেন: চিকিৎসা শেষে সুখবর, জানালেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা Logo নিষিদ্ধ সংগঠন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমানের সহযোগী চন্দনাইশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বর্তমানে সক্রিয় ২ কর্মী গ্রেপ্তার Logo আপেলের উপকারিতা: ৭টি বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য উপকারিতা যা আপনাকে অবাক করবে Logo BTS গ্র্যামি বয়কট: গ্র্যামি থেকে সরানো হলো BTS-এর ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ভিডিও Logo ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার: দুর্গন্ধ দূর করার ৭টি সহজ উপায়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন অধ্যায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৭৪

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর এই পদক্ষেপ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম-২৩৫। এই জ্বালানি ছোট ছোট পেলেট আকারে তৈরি করা হয় এবং জিরকোনিয়াম অ্যালয় টিউবের ভেতরে স্থাপন করে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড। এসব ফুয়েল রড একত্রিত হয়ে গঠন করে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি, যা রিঅ্যাক্টরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় উদাহরণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় দক্ষতার সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পায়ন ও আধুনিকায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

রূপপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বরং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি করবে। অনেকেই মনে করছেন, এটি দেশের উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

৯ আগস্ট চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে বড় কর্মসূচি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন অধ্যায়

Update Time : ০৯:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর এই পদক্ষেপ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  আজকের বিনিময় হার: গুরুত্বপূর্ণ ডলার স্থির, কমল ইউরো-পাউন্ড

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম-২৩৫। এই জ্বালানি ছোট ছোট পেলেট আকারে তৈরি করা হয় এবং জিরকোনিয়াম অ্যালয় টিউবের ভেতরে স্থাপন করে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড। এসব ফুয়েল রড একত্রিত হয়ে গঠন করে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি, যা রিঅ্যাক্টরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় উদাহরণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় দক্ষতার সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিতে ঢাকায় বর্ণিল আমেরিকান মেলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পায়ন ও আধুনিকায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

আরও পড়ুন  শাওমি হোম অ্যাপ্লায়েন্স নিয়ে বাংলাদেশে স্মার্ট লিভিং ইকোসিস্টেম

পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

রূপপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বরং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি করবে। অনেকেই মনে করছেন, এটি দেশের উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।