ছাতক সড়ক দুর্ঘটনা সুনামগঞ্জের ছাতকে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন জুয়েল আহমদ (৩৫) নামে এক পিকআপচালক। রবিবার বিকেলে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত জুয়েল আহমদ সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে পিকআপ চালিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে জুয়েল সিলেট থেকে মাছের খাদ্যবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে ছাতকের জাতুয়া এলাকার একটি ফার্মে আসেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে তিনি সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে মালামাল নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ঠিক সেই সময় সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটগামী একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাক্কার তীব্রতায় তিনি কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জুয়েল আহমদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের এমন ঘোষণার পর স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, জুয়েলের মৃত্যুতে তাদের পরিবারে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
ছাতক সড়ক দুর্ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই বলছেন, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত মাইক্রোবাসটি জব্দ করে এবং চালক আবদুল আহাদকে আটক করে। তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নাদামপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি ও অসতর্ক চালনাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের কিছু অংশে নিয়মিত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের মতে, সড়কে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হলে এমন দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, চালকদের আরও সচেতন হতে হবে। নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, রাস্তার পাশে থামানো যানবাহনের প্রতি সতর্ক থাকা এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণ করলেই অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
ছাতক সড়ক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে, সড়কে সামান্য অসতর্কতা মুহূর্তের মধ্যেই কেড়ে নিতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালক, যাত্রী, পথচারী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

























