সাশ্রয়ী স্মার্টফোন দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার অন্যতম শর্ত বলে মনে করছে সরকার। বর্তমানে একটি স্মার্টফোন কিনতে সাধারণ মানুষের অন্তত ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এই বাস্তবতায় স্মার্টফোনের দাম কমিয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে গ্রামীণফোনের ৭০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ চালু উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্মার্টফোনের উচ্চমূল্য এখনো দেশের অনেক মানুষের জন্য বড় বাধা। তাই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও গতিশীল করতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে কর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বাজেটে সিমের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সরাসরি গ্রাহকদের উপকারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ চালুর ঘোষণা দেয়। এই প্রযুক্তি চালুর ফলে ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্ক সেবা আরও উন্নত হবে এবং দূরবর্তী অঞ্চলেও ইন্টারনেট সংযোগের মান বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, নতুন এই তরঙ্গ ফোরজি সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্টারনেটভিত্তিক স্মার্ট প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করবে।
চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন গ্রামীণফোনকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়। ১৩ বছরের জন্য দেওয়া এই বরাদ্দ থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা জমা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাশ্রয়ী স্মার্টফোন ও উন্নত নেটওয়ার্ক সুবিধা একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

























