ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আজ থেকেই বিজিবিতে সিপাহী নিয়োগ: নারী-পুরুষের বয়স, উচ্চতা ও যোগ্যতা জানুন Logo যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ফিনল্যান্ডের মডেল কেন নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র? Logo পোলিশ অ্যাপেল কেকের সহজ রেসিপি! Logo ৬০ দিনের মধ্যে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ লিজ নেবে ইউএস-বাংলা Logo সুইডেনের নির্বাচনে ভোট শুরু, সরকারে প্রথমবার আসতে পারে উগ্র ডানপন্থীরা Logo মানচিত্রে আফ্রিকা এত ছোট কেন, বাস্তবে কতটা বড়? Logo iPhone 18 Pro বনাম iPhone 17 Pro নতুন মডেলে কী কী বদলেছে Logo প্রেমের নাটক-সিনেমা কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? হাইকোর্টে রিট, নজর এখন আদালতের সিদ্ধান্তে Logo ‘হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে গেছে’, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গীর জীবনে নেমে এলো শোক Logo ১০-০ গোলে উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক হার

চন্দনাইশে বন্যার পানিতে ভেসে গেল মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের স্বপ্ন

ক্ষতিগ্রস্ত জেলে চাষি টিটু দাশ

চন্দনাইশ প্রতিনিধি- মোঃ নুরুল আলম

টানা বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে লাখ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় উপজেলার অসংখ্য মৎস্যচাষী চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখে সরকারি-বেসরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বন্যার হানা তাদের সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও ঢলের পানিতে উপজেলার মৎস্য অফিসের প্রাথমিক জরিপে প্রায় ১ হাজার ৬৩০টি পুকুর ডুবে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। পুকুরগুলোর মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এনজিও, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা ৬টি মৎস্য প্রকল্পের (পুকুর) অধিকাংশ মাছ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন
চন্দনাইশ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড পূর্ব জোয়ারা চৌধুরী মার্কেটস্থ হারলা হাড়ি পাড়া এলাকার মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের দাশ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মহাজানঘাটা চৌধুরীহাট ও চন্দনাইশ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য প্রকল্পগুলো (পুকুর) পরিদর্শনের সময় জেলে চাষি টিটু দাশ কান্নায় ভেঙে পড়েন। চন্দনাইশে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, মাছ বিক্রির ঠিক আগ মুহূর্তে এ ক্ষতির ঘটনায় তারা বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

৪৮ বছর বয়সী ক্ষতিগ্রস্ত জেলে চাষি টিটু দাশ জানান, কয়েকটি ব্যাংক-এনজিও থেকে ১৫-২০লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় তার ৬টি প্রকল্পের (পুকুর) মাছ পানিতে ভেসে গেছে। সব আশা শেষ হয়ে গেছে। ধার-দেনা করে মাছ চাষ করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বন্যা সব শেষ করে দিয়েছে। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করব, সেই চিন্তায় রাতের ঘুমও শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, বুকভরা আশা নিয়ে আমাদের পুকুরগুলোতে মাছ চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে পুকুর ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ায় আমাদের সব আশা চুরমার হয়ে গেছে। সে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চন্দনাইশ উপজেলায় পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য মৎস্যচাষী এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেকেই ব্যাংক, এনজিও ও ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করায় এখন ঋণের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানবীর আহসান বলেন, মৎস্য অফিসের প্রাথমিক জরিপে প্রায় ১ হাজার ৬৩০টি পুকুর ডুবে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। বন্যার ক্ষতিগ্রস্থ মাছচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা বরাদ্দ এলে তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

সরকারের পাশাপাশি যেসব দাতব্য সংস্থা বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা এনজিও বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে থাকেন তাদেরকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ থেকেই বিজিবিতে সিপাহী নিয়োগ: নারী-পুরুষের বয়স, উচ্চতা ও যোগ্যতা জানুন

চন্দনাইশে বন্যার পানিতে ভেসে গেল মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের স্বপ্ন

Update Time : ০২:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

চন্দনাইশ প্রতিনিধি- মোঃ নুরুল আলম

টানা বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে লাখ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় উপজেলার অসংখ্য মৎস্যচাষী চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখে সরকারি-বেসরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে মৎস্য চাষ শুরু করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু বন্যার হানা তাদের সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও ঢলের পানিতে উপজেলার মৎস্য অফিসের প্রাথমিক জরিপে প্রায় ১ হাজার ৬৩০টি পুকুর ডুবে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। পুকুরগুলোর মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্যচাষিরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এনজিও, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা ৬টি মৎস্য প্রকল্পের (পুকুর) অধিকাংশ মাছ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন
চন্দনাইশ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড পূর্ব জোয়ারা চৌধুরী মার্কেটস্থ হারলা হাড়ি পাড়া এলাকার মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের দাশ।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মহাজানঘাটা চৌধুরীহাট ও চন্দনাইশ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য প্রকল্পগুলো (পুকুর) পরিদর্শনের সময় জেলে চাষি টিটু দাশ কান্নায় ভেঙে পড়েন। চন্দনাইশে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, মাছ বিক্রির ঠিক আগ মুহূর্তে এ ক্ষতির ঘটনায় তারা বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

৪৮ বছর বয়সী ক্ষতিগ্রস্ত জেলে চাষি টিটু দাশ জানান, কয়েকটি ব্যাংক-এনজিও থেকে ১৫-২০লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় তার ৬টি প্রকল্পের (পুকুর) মাছ পানিতে ভেসে গেছে। সব আশা শেষ হয়ে গেছে। ধার-দেনা করে মাছ চাষ করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বন্যা সব শেষ করে দিয়েছে। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করব, সেই চিন্তায় রাতের ঘুমও শেষ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  বন্যায় নিহত ৫৯, সরকারের মানবিক সহায়তা ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা

তিনি আরও বলেন, বুকভরা আশা নিয়ে আমাদের পুকুরগুলোতে মাছ চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে পুকুর ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ায় আমাদের সব আশা চুরমার হয়ে গেছে। সে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চন্দনাইশ উপজেলায় পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য মৎস্যচাষী এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেকেই ব্যাংক, এনজিও ও ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করায় এখন ঋণের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  ঈদে মিলাদুন্নবী: চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুসে জনসমুদ্র

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানবীর আহসান বলেন, মৎস্য অফিসের প্রাথমিক জরিপে প্রায় ১ হাজার ৬৩০টি পুকুর ডুবে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে। বন্যার ক্ষতিগ্রস্থ মাছচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা বরাদ্দ এলে তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

সরকারের পাশাপাশি যেসব দাতব্য সংস্থা বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা এনজিও বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে থাকেন তাদেরকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।