ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে সৌদি আরবের ৬ শর্ত Logo কৃত্রিম মাঠে নেইমারের আপত্তি, পালমেইরাস ম্যাচে কী হবে? Logo মহানবী (সা.)-এর উম্মতের প্রতি ভালোবাসার ৫ হৃদয়ছোঁয়া দৃষ্টান্ত Logo কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সিএনজি চালক বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোজাম্মেল গ্রেফতার Logo ঈদে মিলাদুন্নবী: চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুসে জনসমুদ্র Logo আওয়ারাপান ২ বিশ্বব্যাপী সিনেমার আয় ২০০ কোটি Logo সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক Logo বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিল ও কমিটিতে অগ্রাধিকার পাবে Logo আজ রাতে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ-রিয়াল সোসিয়েদাদ

ঈদে মিলাদুন্নবী: চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুসে জনসমুদ্র

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৫০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৫

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুস। ছবি: সংগৃহীত

জশনে জুলুস ঘিরে বুধবার (২৬ আগস্ট) উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম নগর। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুসে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে নগরের বিভিন্ন সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এসে শোভাযাত্রায় যোগ দেন।

জশনে জুলুসের নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের সিরিকোট দরবারের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) এবং শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ.)। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে শোভাযাত্রাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

নগরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলুসটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাইগারপাস এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। তবে বৃষ্টিতে থেমে যায়নি জুলুস। অংশগ্রহণকারীরা বৃষ্টিতে ভিজেই শোভাযাত্রা অব্যাহত রাখেন এবং পরে একই পথে ফিরে এসে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে সমবেত হন।

জশনে জুলুসের পথ ছিল বেশ দীর্ঘ। মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাসসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি। পরে মাদরাসা মাঠে গিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অংশ শেষ হয়। সেখানে মাহফিল, জোহরের নামাজ এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

জুলুসকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই নগরের বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের নানা এলাকা থেকে মানুষ বাস, ট্রাক, অন্যান্য যানবাহন এবং পায়ে হেঁটে ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকায় পৌঁছান। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের চাপও বাড়তে থাকে। আয়োজকদের দাবি, এবারের জুলুসে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে।

জশনে জুলুসকে সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার জন্য মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়। নগরের বিভিন্ন মোড় ও সড়ক তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায় সাজানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও বড় সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এই আয়োজন হয়ে আসছে। আয়োজকদের ভাষ্য, শান্তি, মানবতা, অহিংসা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে সৌদি আরবের ৬ শর্ত

ঈদে মিলাদুন্নবী: চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুসে জনসমুদ্র

Update Time : ০৭:৫০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

জশনে জুলুস ঘিরে বুধবার (২৬ আগস্ট) উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম নগর। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুসে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে নগরের বিভিন্ন সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এসে শোভাযাত্রায় যোগ দেন।

জশনে জুলুসের নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের সিরিকোট দরবারের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) এবং শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ.)। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে শোভাযাত্রাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

আরও পড়ুন  ‘ব্রাজিল চিরকাল আমার হৃদয়ে থাকবে’

নগরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলুসটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাইগারপাস এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। তবে বৃষ্টিতে থেমে যায়নি জুলুস। অংশগ্রহণকারীরা বৃষ্টিতে ভিজেই শোভাযাত্রা অব্যাহত রাখেন এবং পরে একই পথে ফিরে এসে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে সমবেত হন।

জশনে জুলুসের পথ ছিল বেশ দীর্ঘ। মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাসসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি। পরে মাদরাসা মাঠে গিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক অংশ শেষ হয়। সেখানে মাহফিল, জোহরের নামাজ এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় যুবক চমেকে

জুলুসকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই নগরের বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের নানা এলাকা থেকে মানুষ বাস, ট্রাক, অন্যান্য যানবাহন এবং পায়ে হেঁটে ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকায় পৌঁছান। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের চাপও বাড়তে থাকে। আয়োজকদের দাবি, এবারের জুলুসে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে।

জশনে জুলুসকে সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার জন্য মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়। নগরের বিভিন্ন মোড় ও সড়ক তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায় সাজানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও বড় সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

আরও পড়ুন  সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এই আয়োজন হয়ে আসছে। আয়োজকদের ভাষ্য, শান্তি, মানবতা, অহিংসা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।