সংরক্ষিত নারী এমপি নিয়ে সরকারের একটি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন তদারকি বা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছেন ৬৭ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। গত ২৩ আগস্ট জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে এই আপত্তি জানানো হয়।
সংরক্ষিত নারী এমপিদের নির্বাচনি এলাকার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আপত্তি জানানো সংসদ সদস্যরা। তাদের দাবি, সংবিধান ও প্রচলিত আইনে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাইরে সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের তদারকি বা সমন্বয়ের ক্ষমতা দেওয়ার কোনো স্পষ্ট বিধান নেই। ফলে এমন দায়িত্ব বণ্টন সাংবিধানিক কাঠামো ও সংসদীয় রীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বিষয়টি সামনে আসে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পিকারের কাছে দেওয়া চিঠি ও এর আইনি যুক্তিগুলো প্রকাশ করার পর। চিঠিতে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এমপিদের প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক নির্বাচনি এলাকার সম্পর্ক রয়েছে।
সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৩০০ সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকা থেকে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে ৬৫(৩) অনুচ্ছেদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা রয়েছে। আপত্তিপত্রে বলা হয়েছে, এই দুই ধরনের সংসদ সদস্যের নির্বাচনের পদ্ধতি ও প্রতিনিধিত্বের কাঠামো ভিন্ন। তাই সরাসরি নির্বাচিত এমপির নির্বাচনি এলাকায় সংরক্ষিত সদস্যকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার আগে সাংবিধানিক ভিত্তি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন তদারকি বা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪’-এর সংশোধনের একটি খসড়া তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে আপত্তিকারী এমপিদের বক্তব্য, বিদ্যমান আইনে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক নির্বাচনি এলাকা বরাদ্দের বিধান নেই। ২০২৩ সালের সংশোধনীতেও এমন কোনো এলাকা বণ্টনের ব্যবস্থা যুক্ত হয়নি বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ১২১ ও ১২৪ অনুচ্ছেদের আলোচনাতেও নির্বাচনি এলাকার সীমানা ও ভোটার তালিকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ‘ফরিদা আক্তার বনাম অন্যান্য’ মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে দুই ধরনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিত্বের সীমারেখার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৭ এমপির আপত্তির পর সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের দায়িত্ব নির্ধারণের উদ্যোগটি এখন আইনি পর্যালোচনা ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

























