ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজির মৃত্যু

হালুয়াঘাটে খালের পানিতে ডুবে নিহত চাচা-ভাতিজি আব্দুল্লাহ ও জান্নাত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় খালের পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যার পর উপজেলার বিলডোরা ইউনিয়নের পশ্চিম দারিয়াকান্দা (কানাকড়িকান্দা) গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন পশ্চিম দারিয়াকান্দা গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ (৮) এবং একই গ্রামের বুরহান উদ্দিনের মেয়ে জান্নাত (৫)। পারিবারিক সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের বালুয়াকান্দা খালের তীরে খেলছিল আব্দুল্লাহ ও জান্নাত। খেলতে খেলতে একপর্যায়ে তারা অসাবধানতাবশত খালের পানিতে পড়ে যায়। বিষয়টি কেউ তাৎক্ষণিকভাবে টের না পাওয়ায় তারা দীর্ঘ সময় পানির নিচে ছিল।

পরিবারের সদস্যরা শিশু দুজনকে খুঁজে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে খালের পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর তাদের দ্রুত হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের আহাজারি নিহত আব্দুল্লাহর বাবা তুলা মিয়া বলেন,

“আমার ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করত। ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। ভাতিজি জান্নাতকে নিয়ে খেলতে বের হয়েছিল। ভাবতেই পারিনি এভাবে দুজনকে একসঙ্গে হারাতে হবে।”

স্বজনদের কান্নায় পুরো গ্রামে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, দুই শিশুই খুবই চঞ্চল ও সবার প্রিয় ছিল।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন,

“ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুয়াকান্দা খালের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। খালের পাড়ে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা বেড়া না থাকায় প্রায়ই শিশুদের সেখানে খেলতে দেখা যায়। তারা খালের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে খাল, নদী ও জলাশয়ে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই শিশুদের একা জলাশয়ের আশপাশে যেতে না দেওয়া, নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার আগে বাড়ির পাশের বালুয়াকান্দা খালের তীরে খেলছিল আব্দুল্লাহ ও জান্নাত। খেলতে খেলতে একপর্যায়ে তারা খালের ঢালু পাড়ে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, পা পিছলে দুজনই গভীর পানিতে পড়ে যায়। আশপাশে বড় কেউ না থাকায় তারা আর উঠে আসতে পারেনি।

সন্ধ্যা হয়ে গেলেও শিশু দুজন বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে খালের পানিতে কিছু ভাসতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। পরে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আব্দুল্লাহর বাবা তুলা মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“আমার ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করত। কয়েক দিনের জন্য বাড়িতে এসেছিল। জান্নাতকে নিয়ে খেলতে গিয়েছিল। কখন যে এভাবে চলে গেল, বুঝতেই পারিনি।”

জান্নাতের পরিবারের সদস্যরাও শোকে বাকরুদ্ধ। একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়রা জানান, আব্দুল্লাহ ও জান্নাত দুজনই খুব শান্ত, ভদ্র ও সবার আদরের ছিল। তাদের একসঙ্গে হারিয়ে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে।

এক প্রতিবেশী বলেন,

“বিকেলেও ওদের খেলতে দেখেছি। কিছুক্ষণ পরই এমন খবর শুনতে হবে, তা কখনো ভাবিনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুয়াকান্দা খালের বিভিন্ন অংশ গভীর হলেও সেখানে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। খালের পাড়েও নেই কোনো বেড়া বা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। বর্ষা মৌসুমে পানির গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।

তারা খালের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বেড়া নির্মাণ এবং শিশুদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ কামনা করেছেন।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন,

“ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। বর্ষা মৌসুমে খাল, বিল, নদী ও পুকুরে পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের কখনোই জলাশয়ের পাশে একা খেলতে না দেওয়া, নিরাপদ খেলার স্থান নিশ্চিত করা এবং স্থানীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়গুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এ ঘটনার পর এলাকাবাসী খালের বিপজ্জনক অংশে বাঁশের বেড়া, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং শিশুদের নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি দিপু, সম্পাদক জালাল

ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজির মৃত্যু

Update Time : ১১:০৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় খালের পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যার পর উপজেলার বিলডোরা ইউনিয়নের পশ্চিম দারিয়াকান্দা (কানাকড়িকান্দা) গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন পশ্চিম দারিয়াকান্দা গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ (৮) এবং একই গ্রামের বুরহান উদ্দিনের মেয়ে জান্নাত (৫)। পারিবারিক সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের বালুয়াকান্দা খালের তীরে খেলছিল আব্দুল্লাহ ও জান্নাত। খেলতে খেলতে একপর্যায়ে তারা অসাবধানতাবশত খালের পানিতে পড়ে যায়। বিষয়টি কেউ তাৎক্ষণিকভাবে টের না পাওয়ায় তারা দীর্ঘ সময় পানির নিচে ছিল।

পরিবারের সদস্যরা শিশু দুজনকে খুঁজে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে খালের পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর তাদের দ্রুত হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের আহাজারি নিহত আব্দুল্লাহর বাবা তুলা মিয়া বলেন,

“আমার ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করত। ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। ভাতিজি জান্নাতকে নিয়ে খেলতে বের হয়েছিল। ভাবতেই পারিনি এভাবে দুজনকে একসঙ্গে হারাতে হবে।”

স্বজনদের কান্নায় পুরো গ্রামে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, দুই শিশুই খুবই চঞ্চল ও সবার প্রিয় ছিল।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন,

“ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুয়াকান্দা খালের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। খালের পাড়ে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা বেড়া না থাকায় প্রায়ই শিশুদের সেখানে খেলতে দেখা যায়। তারা খালের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে খাল, নদী ও জলাশয়ে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই শিশুদের একা জলাশয়ের আশপাশে যেতে না দেওয়া, নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার আগে বাড়ির পাশের বালুয়াকান্দা খালের তীরে খেলছিল আব্দুল্লাহ ও জান্নাত। খেলতে খেলতে একপর্যায়ে তারা খালের ঢালু পাড়ে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, পা পিছলে দুজনই গভীর পানিতে পড়ে যায়। আশপাশে বড় কেউ না থাকায় তারা আর উঠে আসতে পারেনি।

সন্ধ্যা হয়ে গেলেও শিশু দুজন বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে খালের পানিতে কিছু ভাসতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। পরে দুই শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আব্দুল্লাহর বাবা তুলা মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“আমার ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করত। কয়েক দিনের জন্য বাড়িতে এসেছিল। জান্নাতকে নিয়ে খেলতে গিয়েছিল। কখন যে এভাবে চলে গেল, বুঝতেই পারিনি।”

জান্নাতের পরিবারের সদস্যরাও শোকে বাকরুদ্ধ। একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়রা জানান, আব্দুল্লাহ ও জান্নাত দুজনই খুব শান্ত, ভদ্র ও সবার আদরের ছিল। তাদের একসঙ্গে হারিয়ে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে।

এক প্রতিবেশী বলেন,

“বিকেলেও ওদের খেলতে দেখেছি। কিছুক্ষণ পরই এমন খবর শুনতে হবে, তা কখনো ভাবিনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুয়াকান্দা খালের বিভিন্ন অংশ গভীর হলেও সেখানে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। খালের পাড়েও নেই কোনো বেড়া বা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। বর্ষা মৌসুমে পানির গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।

তারা খালের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বেড়া নির্মাণ এবং শিশুদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ কামনা করেছেন।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন,

“ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত সম্পন্ন করা হবে।

শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। বর্ষা মৌসুমে খাল, বিল, নদী ও পুকুরে পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের কখনোই জলাশয়ের পাশে একা খেলতে না দেওয়া, নিরাপদ খেলার স্থান নিশ্চিত করা এবং স্থানীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়গুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এ ঘটনার পর এলাকাবাসী খালের বিপজ্জনক অংশে বাঁশের বেড়া, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং শিশুদের নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।