ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর প্রাণহানি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৫৩৩

হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে রাজধানীর সংক্রামক রোগ হাসপাতালে।

হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে।হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে একজন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি ১১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। শিশু মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নতুন করে ১২ শিশুর মৃত্যুর ফলে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৫৭ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৭৯ জন।

চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের সংক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হামকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর বা অ্যালার্জি ভেবে অনেক পরিবার প্রথমদিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২০৮ জনে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সংক্রামক রোগ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হাম শনাক্ত হয়ে ঢাকায় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় ৫ জন, বরিশালে ১ জন, খুলনায় ১ জন, ময়মনসিংহে ১ জন, রাজশাহীতে ২ জন এবং সিলেটে ১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাম পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর আগে ৪ মে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। এরপর আবারও ১২ শিশুর মৃত্যু নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত না হওয়াই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক শিশু এখনও হাম প্রতিরোধী টিকা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লাল র‍্যাশ দেখা দেওয়া। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ৯১২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে এখনো হাজারো শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম শুধু একটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়; এটি নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাম পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করছেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় তাঁরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার অনেক এলাকায় চিকিৎসক সংকটের কারণেও রোগ শনাক্তে দেরি হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই জরুরি ভিত্তিতে গণসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। শিশুদের মধ্যে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে হাম পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি দেশের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর প্রাণহানি

Update Time : ০৫:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে।হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে একজন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি ১১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। শিশু মৃত্যুর এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নতুন করে ১২ শিশুর মৃত্যুর ফলে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৫৭ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৭৯ জন।

চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের সংক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হামকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর বা অ্যালার্জি ভেবে অনেক পরিবার প্রথমদিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২০৮ জনে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সংক্রামক রোগ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হাম শনাক্ত হয়ে ঢাকায় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় ৫ জন, বরিশালে ১ জন, খুলনায় ১ জন, ময়মনসিংহে ১ জন, রাজশাহীতে ২ জন এবং সিলেটে ১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাম পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর আগে ৪ মে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। এরপর আবারও ১২ শিশুর মৃত্যু নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত না হওয়াই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক শিশু এখনও হাম প্রতিরোধী টিকা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লাল র‍্যাশ দেখা দেওয়া। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ৯১২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে এখনো হাজারো শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।চিকিৎসকেরা বলছেন, হাম শুধু একটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়; এটি নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাম পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করছেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় তাঁরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার অনেক এলাকায় চিকিৎসক সংকটের কারণেও রোগ শনাক্তে দেরি হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই জরুরি ভিত্তিতে গণসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। শিশুদের মধ্যে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে হাম পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যু নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি দেশের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।