ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সুস্থ বার্ধক্য জানুন বয়স বাড়লেও ভালো থাকার বৈজ্ঞানিক উপায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:২৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সুস্থ বার্ধক্যের অন্যতম ভিত্তি। ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ বার্ধক্য এখন শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিষয় নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। বিশ্বজুড়ে গবেষকেরা বলছেন, বয়স বাড়া স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে পারলে দীর্ঘদিন ভালো থাকা সম্ভব।

আগে ধারণা ছিল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা দ্রুত কমে যাবে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলে অনেক মানুষ ৭০ বা ৮০ বছর বয়সেও সক্রিয় ও কর্মক্ষম থাকতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ বার্ধক্যের মূল চাবিকাঠি হলো প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

গবেষকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম হাড় ও পেশিকে শক্তিশালী রাখে, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।

খাদ্যাভ্যাসও সুস্থ বার্ধক্যের অন্যতম ভিত্তি। চিকিৎসকেরা বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, বাদাম ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চললে হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্বও কম নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মানসিক স্বাস্থ্যও বয়স বাড়ার সঙ্গে সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, নতুন কিছু শেখা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। গবেষকদের মতে, একাকীত্ব মানসিক চাপ ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সুস্থ বার্ধক্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, কোলেস্টেরল, চোখ, দাঁত এবং কিডনির স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করলে অনেক রোগ প্রাথমিক অবস্থাতেই শনাক্ত করা সম্ভব। এতে চিকিৎসা সহজ হয় এবং জটিলতা কমে।

বিশেষজ্ঞরা ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। এগুলো হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, ক্যানসার এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক গবেষক “Healthy Aging” ধারণাকে শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, বরং কর্মক্ষম, স্বাধীন ও মানসিকভাবে সুস্থ জীবন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও নিজের দৈনন্দিন কাজ নিজে করতে পারা এবং জীবনের আনন্দ উপভোগ করাই প্রকৃত সুস্থ বার্ধক্যের লক্ষ্য।

সবশেষে গবেষকদের অভিমত, সুস্থ বার্ধক্যের জন্য কোনো জাদুকরী ওষুধ নেই। বরং প্রতিদিনের সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তি এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর বৈজ্ঞানিক উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুস্থ বার্ধক্য জানুন বয়স বাড়লেও ভালো থাকার বৈজ্ঞানিক উপায়

সুস্থ বার্ধক্য জানুন বয়স বাড়লেও ভালো থাকার বৈজ্ঞানিক উপায়

Update Time : ০৪:২৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সুস্থ বার্ধক্য এখন শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিষয় নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। বিশ্বজুড়ে গবেষকেরা বলছেন, বয়স বাড়া স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে পারলে দীর্ঘদিন ভালো থাকা সম্ভব।

আগে ধারণা ছিল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা দ্রুত কমে যাবে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলে অনেক মানুষ ৭০ বা ৮০ বছর বয়সেও সক্রিয় ও কর্মক্ষম থাকতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ বার্ধক্যের মূল চাবিকাঠি হলো প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

গবেষকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম হাড় ও পেশিকে শক্তিশালী রাখে, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।

আরও পড়ুন  ঘরেই বানান রেস্তোরাঁর মতো মুচমুচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই

খাদ্যাভ্যাসও সুস্থ বার্ধক্যের অন্যতম ভিত্তি। চিকিৎসকেরা বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, বাদাম ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চললে হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্বও কম নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম শরীরের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন  ডাটা প্রকাশে স্বাধীনতা ও পেশাদারির বাড়ানোর তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

মানসিক স্বাস্থ্যও বয়স বাড়ার সঙ্গে সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, নতুন কিছু শেখা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। গবেষকদের মতে, একাকীত্ব মানসিক চাপ ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সুস্থ বার্ধক্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, কোলেস্টেরল, চোখ, দাঁত এবং কিডনির স্বাস্থ্য নিয়মিত পরীক্ষা করলে অনেক রোগ প্রাথমিক অবস্থাতেই শনাক্ত করা সম্ভব। এতে চিকিৎসা সহজ হয় এবং জটিলতা কমে।

বিশেষজ্ঞরা ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। এগুলো হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, ক্যানসার এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  হাসছেন ঠিকই, কিন্তু ভিতরে চাপ? চিনে নিন সাইলেন্ট স্ট্রেস

অনেক গবেষক “Healthy Aging” ধারণাকে শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, বরং কর্মক্ষম, স্বাধীন ও মানসিকভাবে সুস্থ জীবন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও নিজের দৈনন্দিন কাজ নিজে করতে পারা এবং জীবনের আনন্দ উপভোগ করাই প্রকৃত সুস্থ বার্ধক্যের লক্ষ্য।

সবশেষে গবেষকদের অভিমত, সুস্থ বার্ধক্যের জন্য কোনো জাদুকরী ওষুধ নেই। বরং প্রতিদিনের সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তি এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর বৈজ্ঞানিক উপায়।