ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বন্যায় কেটে গেলে কী করবেন? জানুন জরুরি করণীয়

বন্যার সময় বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করাই সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত।

বন্যার সময় বা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর শরীর কেটে গেলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ বন্যার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, কাদা, রাসায়নিক বর্জ্য ও নানা ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। ফলে ছোট একটি ক্ষত থেকেও মারাত্মক সংক্রমণ, এমনকি টিটেনাসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই শরীর কেটে গেলে দ্রুত সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন বন্যার পানিতে কাটা-ছেঁড়া ঝুঁকিপূর্ণ?

বন্যার পানিতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু ও দূষিত উপাদান মিশে থাকে। এই পানি ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

শরীর কেটে গেলে যা করবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শরীর কেটে গেলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—

  • প্রথমেই পরিষ্কার কাপড় বা জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে ক্ষতস্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট চাপ দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
  • সম্ভব হলে কাটা অংশটি হৃদপিণ্ডের চেয়ে একটু উঁচুতে রাখুন। এতে রক্তপাত দ্রুত কমতে পারে।
  • রক্তপাত কমে গেলে সাবান ও নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করুন।
  • ক্ষতের ভেতরে কাদা, ধুলাবালি বা অন্য কোনো ময়লা থাকলে আলতোভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন।
  • এরপর জীবাণুনাশক দ্রবণ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিসেপটিক মলম ব্যবহার করুন।
  • পরিষ্কার ব্যান্ডেজ বা শুকনো কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান ভালোভাবে ঢেকে রাখুন, যাতে আবার বন্যার পানির সংস্পর্শে না আসে।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যান্ডেজ পরিবর্তন করুন এবং ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখুন।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

সব ধরনের ক্ষত ঘরোয়া চিকিৎসায় নিরাপদ নয়। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে—

  • ১০ মিনিট চাপ দেওয়ার পরও রক্তপাত বন্ধ না হলে।
  • ক্ষত অনেক গভীর হলে।
  • মরিচা ধরা লোহা, পেরেক বা ধারালো দূষিত কোনো বস্তুতে কেটে গেলে।
  • ক্ষতস্থান ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত ব্যথা, পুঁজ বের হওয়া বা জ্বর দেখা দিলে।
  • ক্ষতের চারপাশে লালচে ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে।

টিটেনাস টিকা কেন জরুরি?

বন্যার সময় কাটা-ছেঁড়ার ক্ষেত্রে টিটেনাসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই শেষ কবে টিটেনাস টিকা নিয়েছেন তা জানা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত টিটেনাস টিকা বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করুন।

সংক্রমণ এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা

নিজেকে নিরাপদ রাখতে আরও কিছু বিষয় মেনে চলুন—

  • খোলা ক্ষত নিয়ে কখনোই বন্যার পানিতে নামবেন না।
  • অপরিষ্কার হাত দিয়ে ক্ষত স্পর্শ করবেন না।
  • ব্যবহৃত ব্যান্ডেজ পরিষ্কারভাবে ফেলে দিন।
  • শিশুদের ক্ষত হলে বিশেষ নজর রাখুন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সচেতন থাকলেই কমবে ঝুঁকি

বন্যার সময় ছোট একটি কাটা-ছেঁড়াও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে সময়মতো রক্তপাত বন্ধ করা, ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা, জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের কাছে গেলে সংক্রমণসহ নানা জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব। তাই বন্যাকালীন যেকোনো ক্ষতকে গুরুত্ব দিন এবং দ্রুত সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুই সড়কে যোগাযোগ বন্ধ

বন্যায় কেটে গেলে কী করবেন? জানুন জরুরি করণীয়

Update Time : ০১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বন্যার সময় বা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর শরীর কেটে গেলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ বন্যার পানিতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, কাদা, রাসায়নিক বর্জ্য ও নানা ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। ফলে ছোট একটি ক্ষত থেকেও মারাত্মক সংক্রমণ, এমনকি টিটেনাসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই শরীর কেটে গেলে দ্রুত সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন বন্যার পানিতে কাটা-ছেঁড়া ঝুঁকিপূর্ণ?

বন্যার পানিতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু ও দূষিত উপাদান মিশে থাকে। এই পানি ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

শরীর কেটে গেলে যা করবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শরীর কেটে গেলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—

  • প্রথমেই পরিষ্কার কাপড় বা জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে ক্ষতস্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট চাপ দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
  • সম্ভব হলে কাটা অংশটি হৃদপিণ্ডের চেয়ে একটু উঁচুতে রাখুন। এতে রক্তপাত দ্রুত কমতে পারে।
  • রক্তপাত কমে গেলে সাবান ও নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করুন।
  • ক্ষতের ভেতরে কাদা, ধুলাবালি বা অন্য কোনো ময়লা থাকলে আলতোভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন।
  • এরপর জীবাণুনাশক দ্রবণ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিসেপটিক মলম ব্যবহার করুন।
  • পরিষ্কার ব্যান্ডেজ বা শুকনো কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান ভালোভাবে ঢেকে রাখুন, যাতে আবার বন্যার পানির সংস্পর্শে না আসে।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যান্ডেজ পরিবর্তন করুন এবং ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখুন।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

সব ধরনের ক্ষত ঘরোয়া চিকিৎসায় নিরাপদ নয়। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে—

  • ১০ মিনিট চাপ দেওয়ার পরও রক্তপাত বন্ধ না হলে।
  • ক্ষত অনেক গভীর হলে।
  • মরিচা ধরা লোহা, পেরেক বা ধারালো দূষিত কোনো বস্তুতে কেটে গেলে।
  • ক্ষতস্থান ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত ব্যথা, পুঁজ বের হওয়া বা জ্বর দেখা দিলে।
  • ক্ষতের চারপাশে লালচে ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে।

টিটেনাস টিকা কেন জরুরি?

বন্যার সময় কাটা-ছেঁড়ার ক্ষেত্রে টিটেনাসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই শেষ কবে টিটেনাস টিকা নিয়েছেন তা জানা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত টিটেনাস টিকা বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করুন।

সংক্রমণ এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা

নিজেকে নিরাপদ রাখতে আরও কিছু বিষয় মেনে চলুন—

  • খোলা ক্ষত নিয়ে কখনোই বন্যার পানিতে নামবেন না।
  • অপরিষ্কার হাত দিয়ে ক্ষত স্পর্শ করবেন না।
  • ব্যবহৃত ব্যান্ডেজ পরিষ্কারভাবে ফেলে দিন।
  • শিশুদের ক্ষত হলে বিশেষ নজর রাখুন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সচেতন থাকলেই কমবে ঝুঁকি

বন্যার সময় ছোট একটি কাটা-ছেঁড়াও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে সময়মতো রক্তপাত বন্ধ করা, ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা, জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের কাছে গেলে সংক্রমণসহ নানা জটিলতা সহজেই এড়ানো সম্ভব। তাই বন্যাকালীন যেকোনো ক্ষতকে গুরুত্ব দিন এবং দ্রুত সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।