ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠান্ডা নাকি গরম সেঁক? ব্যথায় কোনটি বেশি কার্যকর জানুন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫২১

ব্যথার ধরন অনুযায়ী ঠান্ডা বা গরম সেঁক ব্যবহার করা উচিত। ছবি: সংগৃহীত

ঠান্ডা নাকি গরম সেঁক—ব্যথা হলে অনেকের মনেই প্রথম এই প্রশ্ন আসে। কেউ বরফ ব্যবহার করেন, আবার কেউ গরম পানির ব্যাগ দিয়ে সেঁক দেন। কিন্তু সব ধরনের ব্যথায় একই পদ্ধতি কার্যকর নয়। ব্যথার ধরন, আঘাতের সময় এবং শরীরের অবস্থার ওপর নির্ভর করে ঠিক করতে হয় কোন সেঁক সবচেয়ে উপকারী হবে।

সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে। নকআউট পর্বে আঘাত পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসকে বাঁ ঊরুর পেছনে বড় আইস প্যাক ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের পেশির ব্যথা বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা খেলোয়াড়দের অনেকেই নিয়মিত গরম সেঁক নেন। তাই দুটি পদ্ধতির উদ্দেশ্য এক নয়।

নতুন আঘাত, মচকানো, পড়ে গিয়ে ফোলা, খেলাধুলাজনিত চোট কিংবা প্রদাহ দেখা দিলে সাধারণত ঠান্ডা সেঁক সবচেয়ে কার্যকর। বিশেষ করে আঘাত লাগার প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা সেঁক দিলে রক্তক্ষরণ ও ফোলাভাব কমতে সাহায্য করে। বরফ বা আইস প্যাক অবশ্যই একটি পাতলা কাপড়ে মুড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ব্যবহার করতে হবে। বরফ কখনোই সরাসরি ত্বকের ওপর লাগানো উচিত নয়, কারণ এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের কোমর, ঘাড় বা কাঁধের ব্যথা, পেশি টান, ব্যায়ামের পর পেশির শক্তভাব কিংবা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যায় গরম সেঁক বেশি উপকারী। গরম সেঁক আক্রান্ত স্থানে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিট প্যাক দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সেঁক দেওয়া যেতে পারে।

তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। নতুন আঘাত বা ফোলা জায়গায় কখনোই গরম সেঁক দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে খোলা ক্ষত বা পোড়া স্থানে গরম কিংবা ঠান্ডা—কোনো সেঁকই সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যা বা অনুভূতি কম থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেঁক ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তীব্র ব্যথা, জ্বর, অতিরিক্ত ফোলাভাব বা কয়েক দিন পরও ব্যথা না কমে, তাহলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে সঠিক ধরনের সেঁক ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যথা ও অস্বস্তি দ্রুত কমানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠান্ডা নাকি গরম সেঁক? ব্যথায় কোনটি বেশি কার্যকর জানুন

Update Time : ০৭:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ঠান্ডা নাকি গরম সেঁক—ব্যথা হলে অনেকের মনেই প্রথম এই প্রশ্ন আসে। কেউ বরফ ব্যবহার করেন, আবার কেউ গরম পানির ব্যাগ দিয়ে সেঁক দেন। কিন্তু সব ধরনের ব্যথায় একই পদ্ধতি কার্যকর নয়। ব্যথার ধরন, আঘাতের সময় এবং শরীরের অবস্থার ওপর নির্ভর করে ঠিক করতে হয় কোন সেঁক সবচেয়ে উপকারী হবে।

সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে। নকআউট পর্বে আঘাত পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসকে বাঁ ঊরুর পেছনে বড় আইস প্যাক ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের পেশির ব্যথা বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা খেলোয়াড়দের অনেকেই নিয়মিত গরম সেঁক নেন। তাই দুটি পদ্ধতির উদ্দেশ্য এক নয়।

আরও পড়ুন  আড়াইহাজারে বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধরের অভিযোগ

নতুন আঘাত, মচকানো, পড়ে গিয়ে ফোলা, খেলাধুলাজনিত চোট কিংবা প্রদাহ দেখা দিলে সাধারণত ঠান্ডা সেঁক সবচেয়ে কার্যকর। বিশেষ করে আঘাত লাগার প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঠান্ডা সেঁক দিলে রক্তক্ষরণ ও ফোলাভাব কমতে সাহায্য করে। বরফ বা আইস প্যাক অবশ্যই একটি পাতলা কাপড়ে মুড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ব্যবহার করতে হবে। বরফ কখনোই সরাসরি ত্বকের ওপর লাগানো উচিত নয়, কারণ এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

আরও পড়ুন  ডোরি ফিশ নাকি পাঙাশ? রেস্তোরাঁয় আসলে কী খাচ্ছেন

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের কোমর, ঘাড় বা কাঁধের ব্যথা, পেশি টান, ব্যায়ামের পর পেশির শক্তভাব কিংবা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যায় গরম সেঁক বেশি উপকারী। গরম সেঁক আক্রান্ত স্থানে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিট প্যাক দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সেঁক দেওয়া যেতে পারে।

তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। নতুন আঘাত বা ফোলা জায়গায় কখনোই গরম সেঁক দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে খোলা ক্ষত বা পোড়া স্থানে গরম কিংবা ঠান্ডা—কোনো সেঁকই সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যা বা অনুভূতি কম থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেঁক ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

আরও পড়ুন  পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টি: সুস্থ জীবনের ভারসাম্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তীব্র ব্যথা, জ্বর, অতিরিক্ত ফোলাভাব বা কয়েক দিন পরও ব্যথা না কমে, তাহলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে সঠিক ধরনের সেঁক ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যথা ও অস্বস্তি দ্রুত কমানো সম্ভব।