ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডোরি ফিশ নাকি পাঙাশ? রেস্তোরাঁয় আসলে কী খাচ্ছেন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৫১৩

ডোরি ফিশ নামে পরিবেশিত মাছের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। | ছবি: সংগৃহীত

ডোরি ফিশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ডোরি ফিশ নামে পরিবেশন করা মাছ আসলেই সামুদ্রিক ডোরি মাছ কি না, নাকি ভিন্ন কোনো মাছ।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বাংলাদেশে ডোরি ফিশ আমদানির কোনো উল্লেখযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এ তথ্য সামনে আসার পর ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশের অনেক রেস্তোরাঁয় ডোরি ফিশ নামে পরিবেশন করা হচ্ছে ভিয়েতনামের ‘বাসা’ মাছ, যা মূলত পাঙাশের একটি প্রজাতি।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ) মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিয়েতনামে উৎপাদিত বাসা মাছের গন্ধ, রং ও স্বাদ দেশি পাঙাশের তুলনায় কিছুটা আলাদা। এর মাংস বেশি সাদা এবং তুলনামূলক নরম হওয়ায় অনেক সময় এটি ডোরি ফিশ হিসেবে বাজারজাত করা হয়।

তবে রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত মাছটি আসল ডোরি কি না, তা সাধারণভাবে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, পরিবেশনের সময় মাছের মাথা, চামড়া, কাঁটা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থাকে না। ফলে শুধুমাত্র ফিলে দেখে মাছের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিশ্চিতভাবে জানতে হলে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন।

আসল ডোরি ফিশ বা জন ডোরি একটি সামুদ্রিক মাছ, যা উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। মাছটির শরীর চ্যাপ্টা, মাথা বড় এবং দুই পাশে কালো গোলাকার দাগ থাকে। এর সাদা ও নরম মাংসের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

বিশ্ববাজারে ডোরি ফিশকে প্রিমিয়াম বা ফাইন ডাইনিং মাছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ফিলের দাম সাধারণত প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ মার্কিন ডলারের মধ্যে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার সমান। অন্যদিকে দেশে ডোরি ফিশ নামে বিক্রি হওয়া বাসা ফিলের দাম সাধারণত ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

এদিকে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাজারে বিক্রি হওয়া তথাকথিত ডোরি ফিশে সামুদ্রিক স্বাদ আনার জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো রাসায়নিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি, চিকিৎসকদের মতে খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডোরি ফিশ নামে পরিবেশিত মাছের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত তথাকথিত ডোরি ফিশ আসলে ভিয়েতনামের বাসা বা পাঙাশ মাছ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডোরি ফিশ নাকি পাঙাশ? রেস্তোরাঁয় আসলে কী খাচ্ছেন

Update Time : ০৫:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ডোরি ফিশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ডোরি ফিশ নামে পরিবেশন করা মাছ আসলেই সামুদ্রিক ডোরি মাছ কি না, নাকি ভিন্ন কোনো মাছ।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বাংলাদেশে ডোরি ফিশ আমদানির কোনো উল্লেখযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এ তথ্য সামনে আসার পর ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশের অনেক রেস্তোরাঁয় ডোরি ফিশ নামে পরিবেশন করা হচ্ছে ভিয়েতনামের ‘বাসা’ মাছ, যা মূলত পাঙাশের একটি প্রজাতি।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ) মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভিয়েতনামে উৎপাদিত বাসা মাছের গন্ধ, রং ও স্বাদ দেশি পাঙাশের তুলনায় কিছুটা আলাদা। এর মাংস বেশি সাদা এবং তুলনামূলক নরম হওয়ায় অনেক সময় এটি ডোরি ফিশ হিসেবে বাজারজাত করা হয়।

আরও পড়ুন  ডায়াবেটিসের নতুন ট্রিপল-অ্যাকশন টিকা, ওজন কমাতেও আশাব্যঞ্জক

তবে রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত মাছটি আসল ডোরি কি না, তা সাধারণভাবে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, পরিবেশনের সময় মাছের মাথা, চামড়া, কাঁটা বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থাকে না। ফলে শুধুমাত্র ফিলে দেখে মাছের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিশ্চিতভাবে জানতে হলে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন।

আসল ডোরি ফিশ বা জন ডোরি একটি সামুদ্রিক মাছ, যা উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর এবং আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। মাছটির শরীর চ্যাপ্টা, মাথা বড় এবং দুই পাশে কালো গোলাকার দাগ থাকে। এর সাদা ও নরম মাংসের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

আরও পড়ুন  নতুন শিক্ষার কারিকুলাম বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন ববি হাজ্জাজ

বিশ্ববাজারে ডোরি ফিশকে প্রিমিয়াম বা ফাইন ডাইনিং মাছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ফিলের দাম সাধারণত প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ মার্কিন ডলারের মধ্যে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার সমান। অন্যদিকে দেশে ডোরি ফিশ নামে বিক্রি হওয়া বাসা ফিলের দাম সাধারণত ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

আরও পড়ুন  নারী সেজে টিকটক করা ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান বহিষ্কার

এদিকে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাজারে বিক্রি হওয়া তথাকথিত ডোরি ফিশে সামুদ্রিক স্বাদ আনার জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো রাসায়নিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি, চিকিৎসকদের মতে খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডোরি ফিশ নামে পরিবেশিত মাছের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত তথাকথিত ডোরি ফিশ আসলে ভিয়েতনামের বাসা বা পাঙাশ মাছ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।