ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিটিএস গ্র্যামি বয়কট: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ?

গ্র্যামিতে গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিটিএস। ছবি: সংগৃহীত

বিটিএস গ্র্যামি বয়কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস জানিয়েছে, আগামী গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে তারা নিজেদের কোনো গান জমা দেবে না। ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, গ্র্যামির নতুন “Best Asian Pop Music Performance” বিভাগ চালুর সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে।

বিটিএসের সাত সদস্য—আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জাংকুক—নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই বার্তা শেয়ার করেন। তারা বলেন, সংগীতকে ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে নয়, বরং তার নিজস্ব শিল্পমানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। যদিও তারা সরাসরি গ্র্যামির নতুন বিভাগের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাদের বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন “Best Asian Pop Music Performance” বিভাগ এশিয়ান শিল্পীদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও সমালোচকদের একাংশের দাবি, এতে মূলধারার বিভাগ থেকে এশিয়ান শিল্পীদের আলাদা করে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গ্র্যামির নিয়ম অনুযায়ী, একটি গান নির্দিষ্ট একটি পারফরম্যান্স বিভাগেই জমা দেওয়া যায়। ফলে নতুন বিভাগে অংশ নিলে একই গান “Best Pop Duo/Group Performance”-এ প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।

বিটিএস এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার “Best Pop Duo/Group Performance” বিভাগে মনোনয়ন পেলেও পুরস্কার জিততে পারেনি। তাই অনেক ভক্তের ধারণা, নতুন বিভাগ তাদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে রেকর্ডিং একাডেমির সদস্য জিনা কোডা বলেছেন, এই বিভাগ বিশেষভাবে বিটিএসকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়নি; বরং যেসব এশিয়ান শিল্পী এখনও আন্তর্জাতিকভাবে পর্যাপ্ত স্বীকৃতি পাননি, তাদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এটি চালু হয়েছে।

সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক হং সিওক-কিয়ং মনে করেন, বিটিএসের সিদ্ধান্ত শুধু একটি পুরস্কার এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং এটি সাংস্কৃতিক অবস্থান প্রকাশেরও একটি উপায়। তার মতে, কে-পপ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পশ্চিমা সংগীত প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর না করেও বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সম্ভব। বিটিএসের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তসমাজ।

এদিকে রেকর্ডিং একাডেমি জানিয়েছে, নতুন বিভাগে অংশ নিলেও শিল্পীরা “Record of the Year”, “Album of the Year” কিংবা “Song of the Year”-এর মতো সাধারণ বিভাগে বিবেচিত হতে পারবেন। অর্থাৎ নতুন বিভাগে অংশ নেওয়া মানেই মূলধারার সব বিভাগ থেকে বাদ পড়া নয়। তারপরও বিটিএসের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস নিয়ে এর আগেও বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। ভোটিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, মনোনয়ন নির্বাচন এবং বৈচিত্র্যের অভাব নিয়ে সমালোচনা করেছেন দ্য উইকেন্ড, ফ্র্যাঙ্ক ওশান, জে-জেডসহ অনেক শিল্পী। ফলে বিটিএসের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে সেই আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ভক্তদের মতে, বিটিএস সবসময় সংগীতকে বৈশ্বিক ভাষা হিসেবে দেখেছে। তাই অঞ্চলভিত্তিক আলাদা বিভাগে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে তারা একটি নীতিগত অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে অনেকের মতে, এটি ভবিষ্যতে গ্র্যামির নীতিমালায় পরিবর্তন আনার আলোচনাকেও আরও জোরালো করতে পারে।

সব মিলিয়ে বিটিএস গ্র্যামি বয়কট কেবল একটি পুরস্কার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা নয়। এটি বৈশ্বিক সংগীত শিল্পে সমতা, স্বীকৃতি এবং এশিয়ান শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেয় কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিটিএস গ্র্যামি বয়কট: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ?

Update Time : ১০:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

বিটিএস গ্র্যামি বয়কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস জানিয়েছে, আগামী গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে তারা নিজেদের কোনো গান জমা দেবে না। ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, গ্র্যামির নতুন “Best Asian Pop Music Performance” বিভাগ চালুর সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে।

বিটিএসের সাত সদস্য—আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জাংকুক—নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই বার্তা শেয়ার করেন। তারা বলেন, সংগীতকে ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে নয়, বরং তার নিজস্ব শিল্পমানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। যদিও তারা সরাসরি গ্র্যামির নতুন বিভাগের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাদের বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন “Best Asian Pop Music Performance” বিভাগ এশিয়ান শিল্পীদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও সমালোচকদের একাংশের দাবি, এতে মূলধারার বিভাগ থেকে এশিয়ান শিল্পীদের আলাদা করে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গ্র্যামির নিয়ম অনুযায়ী, একটি গান নির্দিষ্ট একটি পারফরম্যান্স বিভাগেই জমা দেওয়া যায়। ফলে নতুন বিভাগে অংশ নিলে একই গান “Best Pop Duo/Group Performance”-এ প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।

আরও পড়ুন  টিকিটের কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থালাপতি বিজয়।

বিটিএস এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার “Best Pop Duo/Group Performance” বিভাগে মনোনয়ন পেলেও পুরস্কার জিততে পারেনি। তাই অনেক ভক্তের ধারণা, নতুন বিভাগ তাদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে রেকর্ডিং একাডেমির সদস্য জিনা কোডা বলেছেন, এই বিভাগ বিশেষভাবে বিটিএসকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়নি; বরং যেসব এশিয়ান শিল্পী এখনও আন্তর্জাতিকভাবে পর্যাপ্ত স্বীকৃতি পাননি, তাদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এটি চালু হয়েছে।

আরও পড়ুন  সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা?

সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক হং সিওক-কিয়ং মনে করেন, বিটিএসের সিদ্ধান্ত শুধু একটি পুরস্কার এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং এটি সাংস্কৃতিক অবস্থান প্রকাশেরও একটি উপায়। তার মতে, কে-পপ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে পশ্চিমা সংগীত প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর না করেও বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সম্ভব। বিটিএসের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তসমাজ।

এদিকে রেকর্ডিং একাডেমি জানিয়েছে, নতুন বিভাগে অংশ নিলেও শিল্পীরা “Record of the Year”, “Album of the Year” কিংবা “Song of the Year”-এর মতো সাধারণ বিভাগে বিবেচিত হতে পারবেন। অর্থাৎ নতুন বিভাগে অংশ নেওয়া মানেই মূলধারার সব বিভাগ থেকে বাদ পড়া নয়। তারপরও বিটিএসের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস নিয়ে এর আগেও বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। ভোটিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, মনোনয়ন নির্বাচন এবং বৈচিত্র্যের অভাব নিয়ে সমালোচনা করেছেন দ্য উইকেন্ড, ফ্র্যাঙ্ক ওশান, জে-জেডসহ অনেক শিল্পী। ফলে বিটিএসের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে সেই আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন  ভাইরাল জিমিন হলান্ড হাঁটা: অবাক করা মুহূর্তে মাতল ভক্তরা

ভক্তদের মতে, বিটিএস সবসময় সংগীতকে বৈশ্বিক ভাষা হিসেবে দেখেছে। তাই অঞ্চলভিত্তিক আলাদা বিভাগে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে তারা একটি নীতিগত অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে অনেকের মতে, এটি ভবিষ্যতে গ্র্যামির নীতিমালায় পরিবর্তন আনার আলোচনাকেও আরও জোরালো করতে পারে।

সব মিলিয়ে বিটিএস গ্র্যামি বয়কট কেবল একটি পুরস্কার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা নয়। এটি বৈশ্বিক সংগীত শিল্পে সমতা, স্বীকৃতি এবং এশিয়ান শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেয় কি না।