ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জঙ্গি নাটক মামলা শুনানিতে প্রসিকিউটরের বক্তব্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জঙ্গি নাটক মামলা শুনানি। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গি নাটক মামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৬ সালের গাজীপুরের জয়দেবপুরের বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম দাবি করেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের পর মামলাটি আবারও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে উপস্থিত থাকলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

শুনানিতে প্রসিকিউটর বলেন, সরকারের সমালোচনাকারীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি তকমা দেওয়া হতো। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যক্তিদের আটক করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হতো এবং পরে অভিযান দেখিয়ে তাঁদের হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগীদের একজন মাদ্রাসাছাত্র মো. ইব্রাহীমের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী মন্তব্য করার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে অংশ নেওয়া বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতেন। প্রসিকিউটরের দাবি, এসব অভিযানের পরিকল্পনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিতেন। ফলে কেবল মাঠপর্যায়ের সদস্য নয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী বিচার করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুনানিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়াও অনেক সময় দীর্ঘ হয়েছে। প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন, যদিও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এসব বিষয়ও মামলার আলোচনায় উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষ এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১০ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মামলার অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। ফলে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জঙ্গি নাটক মামলা শুনানিতে প্রসিকিউটরের বক্তব্য

Update Time : ১০:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

জঙ্গি নাটক মামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৬ সালের গাজীপুরের জয়দেবপুরের বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম দাবি করেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের পর মামলাটি আবারও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে উপস্থিত থাকলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন  মাদারীপুরে লিফট বিকল: নারী ও শিশুসহ ৮ জন ৩০ মিনিট আটকা, পরে উদ্ধার

শুনানিতে প্রসিকিউটর বলেন, সরকারের সমালোচনাকারীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি তকমা দেওয়া হতো। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যক্তিদের আটক করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হতো এবং পরে অভিযান দেখিয়ে তাঁদের হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগীদের একজন মাদ্রাসাছাত্র মো. ইব্রাহীমের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী মন্তব্য করার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে অংশ নেওয়া বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতেন। প্রসিকিউটরের দাবি, এসব অভিযানের পরিকল্পনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিতেন। ফলে কেবল মাঠপর্যায়ের সদস্য নয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী বিচার করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুনানিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়াও অনেক সময় দীর্ঘ হয়েছে। প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন, যদিও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এসব বিষয়ও মামলার আলোচনায় উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষ এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

আরও পড়ুন  শাপলা চত্বর মামলা দ্রুত এগোচ্ছে: হেফাজত

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১০ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মামলার অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। ফলে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।