জন নায়াগান মুক্তিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ যেমন তুঙ্গে, তেমনি বিতর্কও যেন পিছু ছাড়ছে না। সিনেমাটির টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং ভুয়া সেন্সর সার্টিফিকেট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অভিনেতা থালাপতি বিজয় নিজের টিমকে আগেভাগেই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি মুক্তির আগেই টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজয়ের স্পষ্ট বার্তা, সিনেমার সাফল্যের চেয়ে টিকিট নিয়ে কোনো বিতর্ক যেন বেশি আলোচনায় না আসে। তাই নির্ধারিত মূল্যের বাইরে টিকিট বিক্রি বা বিশেষ শোর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, মুক্তির সময় বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকতে পারে। কোনো হল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে টিকিট বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাগৃহের লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় আসতে পারে। অতীতে বিজয়ের সিনেমা মুক্তির সময় টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ ওঠায় এবার শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে জন নায়াগান-এর একটি কথিত সেন্সর বোর্ডের সার্টিফিকেট। সেখানে দাবি করা হয়, সিনেমাটি আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেভিএন প্রোডাকশন দ্রুত জানিয়ে দেয়, ভাইরাল হওয়া সার্টিফিকেটটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তাদের ভাষ্য, সেন্সর বোর্ড ছবিটি পর্যালোচনা করলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে ভক্তদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এইচ বিনোথ পরিচালিত রাজনৈতিক ড্রামা জন নায়াগান প্রথমে ২০২৬ সালের পোঙ্গল উৎসব উপলক্ষে ৯ জানুয়ারি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ছবিটি তামিল চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, এতে অভিনয় করেছেন তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর এটিই তাঁর শেষ সিনেমা হতে পারে বলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে জন নায়াগান এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, দর্শকদের কাছে একটি বড় প্রত্যাশার নাম। টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, কালোবাজারি রোধ এবং ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে নির্মাতারা সিনেমাটিকে বিতর্কমুক্ত রাখার চেষ্টা করছেন। এখন ভক্তদের অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক সেন্সর ছাড়পত্র এবং মুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণার।

























