ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ চবি ছাত্রদল নেতা হাসানের

বাঁশখালীর বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করছেন চবি ছাত্রদল নেতা হাসান আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী পরিবারের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দিনব্যাপী পরিচালিত এ মানবিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ।

বন্যার কারণে এলাকার নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে পরিবারগুলো খাদ্যসংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়ে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কষ্ট কিছুটা লাঘবের লক্ষ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, ভোজ্যতেল, লবণ, চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। যেসব পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছিল না, তাদের বাড়িতেও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

উপহারসামগ্রী বিতরণ শেষে হাসান আহমেদ বলেন,
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবসময়ই দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরা বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত শেষ হয় না। অনেক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খাদ্যসংকট দেখা দেয়। তাই আমরা শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও সহযোগিতা করার পরিকল্পনা নিয়েছিবাঁশখালীতে বন্যার্তদের সহায়তা কার্যক্রম

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ি ও সড়ক প্লাবিত হয়। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং কেউ কেউ বাড়িতেই পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

উপকারভোগীদের একজন বলেন, বন্যার কারণে কয়েক দিন ধরে আয়-রোজগার বন্ধ। ঘরে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছিল। এই সহায়তা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক উপকারে এসেছে।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক এবং স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত, উপহারসামগ্রী পরিবহন এবং সুষ্ঠুভাবে বিতরণের কাজে সহযোগিতা করেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান মানুষও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসবেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন অবরোধ ভাঙতে ২৩ গোপন জাহাজ, কী করছে ইরান?

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ চবি ছাত্রদল নেতা হাসানের

Update Time : ০৮:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী পরিবারের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দিনব্যাপী পরিচালিত এ মানবিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ।

বন্যার কারণে এলাকার নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে পরিবারগুলো খাদ্যসংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়ে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কষ্ট কিছুটা লাঘবের লক্ষ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, ভোজ্যতেল, লবণ, চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। যেসব পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছিল না, তাদের বাড়িতেও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  মানবতার পাশে দাঁড়ানোর নাম—জাকির হোসেন

উপহারসামগ্রী বিতরণ শেষে হাসান আহমেদ বলেন,
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবসময়ই দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরা বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত শেষ হয় না। অনেক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খাদ্যসংকট দেখা দেয়। তাই আমরা শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও সহযোগিতা করার পরিকল্পনা নিয়েছিবাঁশখালীতে বন্যার্তদের সহায়তা কার্যক্রম

আরও পড়ুন  বিমানবন্দরে প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার করলেন আনসার সদস্যরা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ি ও সড়ক প্লাবিত হয়। অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং কেউ কেউ বাড়িতেই পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

উপকারভোগীদের একজন বলেন, বন্যার কারণে কয়েক দিন ধরে আয়-রোজগার বন্ধ। ঘরে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছিল। এই সহায়তা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক উপকারে এসেছে।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক এবং স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত, উপহারসামগ্রী পরিবহন এবং সুষ্ঠুভাবে বিতরণের কাজে সহযোগিতা করেন।

আরও পড়ুন  এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, বন্যায় ৫ জেলার পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিত্তবান মানুষও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসবেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।