ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সেমিফাইনাল ম্যাচের রাতে ঝটপট বানান স্প্যানিশ অমলেট Logo কাতারের সাবেক আমির: গভীর শোকে তারেক রহমানের বার্তা হস্তান্তর Logo বিশ্বকাপে রোবট কুকুর, কী পারে চার পায়ের এই প্রযুক্তি Logo কুফা ভক্ত টয়া! আর্জেন্টিনা সমর্থন নিয়ে চমকপ্রদ স্বীকারোক্তি Logo কন্যাসন্তান জন্মের পর স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে গেলেন বাবা Logo মার্কিন অবরোধ ভাঙতে ২৩ গোপন জাহাজ, কী করছে ইরান? Logo শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার: নাহিদের দাবি Logo সরাইলে ২০ কিমি যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে হাজারো মানুষ Logo বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে: হতাশাজনক হারে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু Logo গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে বলছেন গাইনোকোলজিস্ট

স্কুলের পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার সময় ছাদ ধস, আহত ৬ শ্রমিক

শ্যামনগরে পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ধসের পর উদ্ধার কার্যক্রম। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার সময় হঠাৎ ছাদ ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার ৭২ নম্বর পূর্ব কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন অপসারণের কাজ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রমিকরা ভবনটি ভাঙার কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা ভবনের ছাদ ও দেয়াল অপসারণের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে ভবনের উপরের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই পুরো ছাদের একটি বড় অংশ ধসে যায়। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শ্রমিক। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

খবর পেয়ে শ্যামনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে এবং ভবনের বাকি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা পরিদর্শন করে। পরে আহতদের দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানান, আহত ছয়জনের মধ্যে দুজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্য চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আহত শ্রমিকরা হলেন—খুলনার কয়রা উপজেলার রানা আহম্মেদ (২৪), জয়নাল আবেদীন (৩৩), মো. জুবায়ের হোসেন (২০), মফিজুল ইসলাম (৩৫), ইদ্রিস আলী (৩৮) এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মো. আলাউদ্দিন (৪২)।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালাম উল্লাহ বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সরকারি নিয়ম মেনে ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয় এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে ভবন ভাঙার কাজ করছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভবন ভাঙার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। অধিকাংশ শ্রমিকের শরীরে সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে হেলমেট, সেফটি বেল্ট বা অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল না বলেও দাবি করেন তারা। তাদের মতে, নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।

এদিকে দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবন ভাঙার কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি ভবন অপসারণের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনাল ম্যাচের রাতে ঝটপট বানান স্প্যানিশ অমলেট

স্কুলের পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার সময় ছাদ ধস, আহত ৬ শ্রমিক

Update Time : ০৮:৫১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার সময় হঠাৎ ছাদ ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার ৭২ নম্বর পূর্ব কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন অপসারণের কাজ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল। ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রমিকরা ভবনটি ভাঙার কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা ভবনের ছাদ ও দেয়াল অপসারণের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে ভবনের উপরের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই পুরো ছাদের একটি বড় অংশ ধসে যায়। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শ্রমিক। ঘটনাস্থলে থাকা অন্য শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত প্রবাসী মামুনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

খবর পেয়ে শ্যামনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে এবং ভবনের বাকি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা পরিদর্শন করে। পরে আহতদের দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানান, আহত ছয়জনের মধ্যে দুজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্য চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন  কদমতলীর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার, সহায়তার আশ্বাস

আহত শ্রমিকরা হলেন—খুলনার কয়রা উপজেলার রানা আহম্মেদ (২৪), জয়নাল আবেদীন (৩৩), মো. জুবায়ের হোসেন (২০), মফিজুল ইসলাম (৩৫), ইদ্রিস আলী (৩৮) এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মো. আলাউদ্দিন (৪২)।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালাম উল্লাহ বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সরকারি নিয়ম মেনে ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয় এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে ভবন ভাঙার কাজ করছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভবন ভাঙার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। অধিকাংশ শ্রমিকের শরীরে সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে হেলমেট, সেফটি বেল্ট বা অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল না বলেও দাবি করেন তারা। তাদের মতে, নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।

আরও পড়ুন  মঠবাড়িয়া টিয়ারখালী হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্ষোভ: ১৭ কোটির ভবন এখন জঙ্গলবাড়ি

এদিকে দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবন ভাঙার কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি ভবন অপসারণের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।